ব্রুনাই দারুসসালামের সুলতানকে ঢাকায় লাল গালিচা সংবর্ধনা

    প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ব্রুনাই দারুসসালামের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ মুইজ্জাদ্দিন ওয়াদদৌল্লাহ। দুই দিনের সফরে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তাকে বহনকারী বিশেষ বিমান। বিমানবন্দরে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনেইয়ের সুলতানকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিমান থেকে নামার সময়ে ২১বার তোপধ্বনি দেওয়া হয় সুলতানের সম্মানে। তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সুলতান হাসানাল বলকিয়াহকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপ্রধানআবদুল হামিদ। পরে দুই রাষ্ট্রপ্রধান অভ্যর্থনা মঞ্চে ওঠেন। সুলতানকে গার্ড অব অনার দেয় তিন বাহিনী একটি চৌকস দল। এসময় ব্রুনাই ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এরপর গার্ড পরিদর্শন করেন ব্রুনেইয়ের সুলতান বলকিয়াহ। বিমানবন্দরে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রবাসকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসা সুলতান বলকিয়াহ। সাভার থেকে তিনি ঢাকায় হোটেলে উঠবেন। সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সুলতানের সঙ্গে দেখা করতে হোটেলে যাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাবেন সুলতান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর সম্মানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন সুলতান। সফরের দ্বিতীয় দিন রোববার দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন সুলতান। এর পর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে যাবেন তিনি। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে একান্ত বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ব্রুনাইয়ের সুলতান। দুই নেতার উপস্থিতিতে চুক্তি ও সমঝোতায় সই করবেন দুই দেশের সংশ্নিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেখান থেকে সরাসরি বিমানবন্দরে যাবেন সুলতান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশেষ ফ্লাইটে তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সুলতানের সফরকে কেন্দ্র করে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে দুই দেশ। সুলতানের সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের বিমান চলাচল চুক্তি, বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগ সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং দুই দেশ কর্তৃক নাবিকদের সার্টিফিকেটেরে স্বীকৃতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো ছাড়াও ব্রুনাই থেকে জ্বালানি ক্রয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক নবায়নের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ব্রুনাই তাদের ২০৩৫ ভিশন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায়, যার মাধ্যমে তাদের মেগা প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে পারে। তবে বাংলাদেশ নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক এবং নিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে ব্রুনাইকে মত দিয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে চিকিৎসক ও নার্সের প্রচুর সংকট রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুযোগ রয়েছে সেখানে পেশাজীবী রপ্তানির। এ ছাড়া দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই। ফলে অন্য দেশে ট্রানজিট নিয়ে সেখানে যেতে হয়। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল সমঝোতা স্মারক সই হলে শ্রম রপ্তানিতে এ ক্ষেত্রে খরচ কমে আসবে। ফলে শ্রমিক রপ্তানি, সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং জ্বালানি বিষয়ে এ সফরে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুলতানের আমন্ত্রণে ব্রুনাই সফর করেন। সেই সফরে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ১৯৮৪ সালে ব্রুনাইয়ের স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

    তারেক মুহাম্মদ