গভীর শ্রদ্ধা আজাদ রহমানের স্মৃতির প্রতি

জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো। এই কালজয়ী গানের সুরকার আজাদ রহমান। পাশাপাশি সংগীত পরিচালক, গীতিকার এবং গায়ক। ধ্রুপদ গানের এক সাধক। একজন শিক্ষক। ভারতের রবীন্দ্র ভারতী থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীতে অনার্স সম্পন্ন করেন আজাদ রহমান। এ সময় তিনি কীর্তন, খেয়াল, টপ্পা, ধ্রুপদ সংগীত, লোক সংগীত, ঠুমরী, রবীন্দ্র সংগীত, অতুল প্রসাদের গান, দিজেন্দ্র গীতি, রজনী কান্তের গানে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে আজাদ রহমান কোলকাতার “মিস প্রিয়ংবদা” চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন। ওই ছবিতে তাঁর সুরে গান করেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখার্জি ও প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরপরই তিনি এ দেশে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। বাংলাদেশে আজাদ রহমানের সুরকৃত প্রথম ছবি বাবুল চৌধুরী পরিচালিত “আগন্তুক”। মাসুদ রানা ছবিতে তার সুরের “মনেরও রঙে রাঙাবো”, তাঁর নিজ কন্ঠে গাওয়া এপার ওপার ছবির “ভালোবাসার মুল্য কতো” কিংবা দস্যু বনহুর ছবির “ডোরাকাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়”, এমন সব গান চিরকাল মানুষের মনে অনুরনন তুলবে। শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে এবং শ্রেষ্ঠ পুরুষ কন্ঠ শিল্পী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন আজাদ রহমান। গতবছর, ২০২০ সালের ১৬ মে প্রয়াত হন এই মহান সুর সাধক। যার অবর্তমানে যেন হারিয়েই যাচ্ছে নিধুবাবুর টপ্পা, ঠুমরী এমন সব লোক সংগীত। গভীর শ্রদ্ধা আজাদ রহমানের স্মৃতির প্রতি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।
মুজতবা সউদ