আজ পহেলা মে, মনে পরে ফকির আলমগীরকে

আজ পহেলা মে। মে দিবস। বাল্যকাল থেকেই শুনে আসছি এই দিনটি শ্রমিকদের দাবি আদায়ের দিবস। ৮ ঘন্টা কর্ম সময়ের দাবিতে এই দিন বুকের রক্ত দিয়েছিলেন শ্রমিকরা। এই শোনা কথাটা, গানে গানে বুকের মাঝখানে গেঁথে দিয়েছিলেন আপনি। শ্রমিকদের সেই বুকের রক্ত ঢেলে দেবার ঘটনা কী বাংলাদেশের শ্রমিকদের চেয়েও কঠিন ছিলো ফকির আলমগীর ভাই? আজরীন গার্মেন্টস এর জলন্ত কিশোর, রানা প্লাজার চাপা পড়া কিশোরীর বেদনার চেয়েও কি বেশি? বছরের পর বছর ধরে, দেখে আসছি, বেতনের দাবিতে ওরা রাস্তা অবরোধ করে, ভাংচুর করে। গতবছর করোনাকালে বেতন পায়নি বেশির ভাগ শ্রমিক। অথচ ওদের বেতনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলেন সরকার। যা ওদের কাছে পৌঁছেনি। এবার করোনার ভয়াবহতা বাড়লেও ওদের ডাকা হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থ নৈতিক চাকা সচল রাখছে। যানবাহন নেই, হেঁটে, ভ্যানে, ওরা আসছে। করোনা কালীন নিরাপত্তার কারণে, মাঝে মাঝেই পথে আঁটকে দিচ্ছে পুলিশ। সময় মত না গেলে বেতন বন্ধ। গেলেও বেতন পাবে কিনা জানা নেয়। অনিশ্চিত অন্ধকারে লক্ষ শ্রমিক। বিক্ষোভ কর্মসূচী দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। বাস বন্ধ থাকায় অচল ওদের সংসার। রিক্সা বের করে পুলিশের লাঠির বাড়ি খেয়ে সখিনার স্বামী এক ঝুপড়ি ঘরে। ক্ষুধার জ্বালায় আর পায়ের ব্যথায় সে নিজেই আজ ভুলতে বসেছে সখিনাকে। এই কস্ট কী সেই শ্রমিকদের বেদনার চেয়ে কম। ওরা সবাই আজ অপেক্ষা করছে আপনার কন্ঠের। ওদের বেদনা আপনার গানে, আপনার কন্ঠে ফুটে ওঠে? আপনি তো গণমানুষের শিল্পী ফকির আলমগীর ভাই। গণ জাগরণের শিল্পী। বীর মুক্তিযোদ্ধা। একটা নতুন গান তৈরি করুন না ফকির আলমগীর ভাই। যে গান এই সময়ের কথা বলবে, বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ বঞ্চিত শ্রমিকের কথা বলবে। নিপিড়ীত, অনশন বন্দী মানুষের কথা বলবে। লিখুন না ফকির আলমগীর ভাই। সেই কন্ঠের আশায় কান খাড়া করে আছে, বাংলার লক্ষ লক্ষ খেটে খাওয়া মানুষের কান।
মুজতবা সউদ