শুভ জন্মদিন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়

যিনি সমানভাবে বলিউড এবং বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। তিনি রাজেশ খান্না, শশী কাপুর, জীতেন্দ্র, সঞ্জীব কুমার, বিনোদ মেহ্‌রা এবং অমিতাভ বচ্চনের মতো অভিনেতাদের সাথে কাজ করেছেন। তিনি ১৯৭৩-১৯৮৪ পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকগ্রহণকারী হিন্দি অভিনেত্রী ছিলেন। তার নাম মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের বাবা প্রাণতোশ চট্টোপাধ্যায় একজন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা ছিলেন। তার দাদা একজন বিচারক ছিলেন। মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন (হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্র)। বিয়ের পর বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন, যা তখনকার দিনে নারীদের ক্ষেত্রে খুবই ব্যতিক্রম ছিল।
তরুণ মজুমদার পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘বালিকা বধু’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র অভিষেক ঘটে। নায়িকা হিসেবে তার অভিষেক ঘটে হিন্দি সিনেমা ‘অনুরাগ’-এর মাধ্যমে, যে ছবির পরিচালক ছিলেন শক্তি সামন্ত— যা ব্লকবাস্টার হিট হয়। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্যে তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।
এর পরে, তিনি শশী কাপুরের সাথে ‘নাইনা’, বিনোদ মেহ্‌রার সাথে ‘আস পার’-এর মতো অনেক হিট সিনেমায় অভিনয় করেন। এরপর তিনি অমিতাভ বচ্চনের সাথে ‘বেনাম’ এবং তারপর রাজেশ খান্নার বিপরীতে রহস্য সিনেমা ‘হামসাকাল’-এ অভিনয় করেন। কিন্তু উভয় সিনেমাই ১৯৭৪ সালে সফলতা লাভ করতে পারে নি।
তার অভিনীত সবচেয়ে সফলজনক চলচ্চিত্র ১৯৭৪ সালে, মনোজ কুমারের ‘রোটি কাপাড়া অর মাকান’— যে সিনেমায় তিনি একজন ধর্ষিতা সংগ্রামী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। তার এই অভিনয় ফিল্মফেয়ার সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করে।
তিনি তনুজচন্দ্রের ‘জিন্দেগী রক্স’এবং ‘বলিউড/হলিউড’ সিনেমাতে জমজ চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি ২০০৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
এরপর দশটি রোমান্টিক সিনেমায় বিনোদ মেহ্‌রার সাথে কাজ করেন এবং তারা একসাথে মোট ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বিনোদ মেহ্‌রা-মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্রগুলো হলঃ অনুরাগ, আস-পার, রাফতার, উমার কয়েদ, মাযাক, জিন্দেগী, জ্যোতি বানে জালওয়া।
উত্তম কুমারের সাথে তার অভিনীত সিনেমা ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ মুক্তি পায় ১৯৮১ সালে। ১৯৮২ সালে তিনি একটি মারাঠি সিনেমায় ‘তুমিহ্ আদকিত্তা এম হো সুপারী’ নামের একটি গানের কেমিও হিসেবে উপস্থিত থাকেন। ছবিটির নাম ‘ভান্নাত ভানু’। বিনোদ মেহ্‌রা ব্যতিত অন্যান্য নায়ক যেমন শশী কাপুর, রাজেশ খান্না, জীতেন্দ্র এবং সঞ্জীব কুমারের সাথেও তিনি অনেক সিনেমায় অভিনয় করেন। রাজেশ খান্নার সাথে তার অভিনীত সিনেমাগুলো হলঃ ভোলা ভালা, প্রেম বন্ধন, ঘর পারিভার।
বাংলা চলচ্চিত্রে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিনীত সিনেমাগুলো হলঃ বালিকা বধু, পরিণীতা, অনিন্দিতা, আনন্দ আশ্রম, ওগো বধূ সুন্দরী, প্রার্থনা, শতরূপা, কড়ি দিয়ে কিনলাম।
পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রে সহ-অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিনীত বাংলা সিনেমাগুলো হলঃ নাটের গুরু, ভালোবাসার অনেক নাম, গোলাপী এখন বিলেতে, দ্য জাপানিজ ওয়াইফ এবং গয়নার বাক্স। মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় ১৯৪৮ সালের ২৬ এপ্রিল কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
গোপাল দেবনাথ, কলকাতা