মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটরা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের একেকজন অ্যাম্বাসেডর : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে অনন্য রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এ ক্ষেত্রে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের অবদান অসাধারণ। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই একাডেমির ক্যাডেটদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততা, বিচক্ষণতা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তাই মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটরা দেশের বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। তারা যেখানেই থাকুন না কেন,তাদের সততা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার উজ্জ্বল অবস্থা সৃষ্টি করবে।’ শ ম রেজাউল করিম আজ চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে একাডেমির ৩৯তম ও ৪০তম ব্যাচের ক্যাডেটদের গ্র্যাজুযয়েশন প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফ, যুগ্মসচিব মাহবুবা পান্না, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াসিম মকসুদসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি, মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট, সরকারি শিপিং দপ্তরসহ অন্যান্য মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত মেরিন ফিশারিজ একাডেমির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা সহানুভূতি ও আন্তরিকতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান এ একাডেমি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এজন্য একাডেমির ক্যাডেটদের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোর্সেও সময়সীমা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হয়েছে।’ তিনি এসময় উল্লেখ করেন, এ বছর একাডেমির ৩৯তম ও ৪০তম ব্যাচে নটিক্যাল বিভাগে ৬৩ জন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬৬ জন এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগে ৩৬ জন ক্যাডেট পাসড আউট হচ্ছে। এদের মধ্যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬ জন এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগে ৪ জন মহিলা ক্যাডেট রয়েছে। নারী শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনার একটি ধাপ হিসেবে এ একাডেমিতে মহিলা
ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৪৮ জন মহিলা ক্যাডেট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নের এ সুযোগ শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতে এ একাডেমিতে আরো বেশি মহিলা ক্যাডেট আসবে বলেও মন্ত্রী প্রত্যাশা করেন।
এর আগে তিনি প্যারেড পরিদর্শন ও সেরা ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। পরে সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সনদ তুলে দেন।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা