চরম সংকটে নিমজ্জিত দেশীয় সঙ্গীত জগত : আবদুল জাববার খান

সারা দেশেই এখন লকডাউন চলছে। কোভিড – ১৯ ভাইরাস এসে পুরো পৃথিবীর মানুষগুলোকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড একেবারেই বন্ধ।
কবে চালু হবে, তারও কোন আলামত দেখা যাচ্ছে না। অন্য সবার মত দেশীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত সবাই সম্পূর্ণ বেকার হয়ে বসে আছেন, তাও দীর্ঘ দিন হয়ে গেল। এর মধ্যে আছেন কন্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী, স্টুডিও মালিক, সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সহ আরও অনেকে।
লকডাউন উঠে গেলেও সহসাই সরগরম হবে না দেশীয় সঙ্গীত সেক্টরটি। ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে পুরো দেশের অর্থনীতি। ইতোমধ্যেই মন্দার প্রভাব শুরু হয়ে গেছে।
সঙ্গীত শিল্পী এবং মিউজিশিয়ানরা মূলত স্টেজ শোয়ের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে রয়ালিটি জাতীয় কোন বন্দোবস্ত নেই। নিজেদের পয়সায় গান বানিয়ে, ভিডিও নির্মাণ করে কোম্পানিগুলোতে সরবরাহ করেন শিল্পীরা। দু’একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়তো থাকতে পারে। রয়ালিটির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেই গান সরবরাহ করা হয়। ব্যস, ওই পর্যন্তই। এখনও পর্যন্ত এই টাকা কয়জন শিল্পী বুঝে পেয়েছেন, সেই খবর ঘোলাটেই রয়ে গেছে।
সাধারণত শীতকালে বা শুকনো সিজনেই স্টেজ শোগুলোর আয়োজন করা হয়। এই সময়টা সর্বোচ্চ তিন থেকে চার মাস। এই আয় দিয়েই শিল্পী সমাজকে সারা বছর চলতে হয়। এবার ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে এই আয়ের পথ ধ্বংস হয়ে গেল।
সঙ্গীত জগতের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত বলেই আমি জানি, ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে এরা। মাস শেষে বাড়ি ভাড়া, সাংসারিক নিয়মিত খরচ, চিকিৎসা ব্যয়, সামাজিকতার দায় – সবকিছু মিলিয়ে গভীর হতাশায় নিমজ্জিত সবাই। এরা সামাজিক ভাবে সন্মানিত শ্রেণীতে পড়েন। সাধারণ মানুষ এদের নিয়ে ফ্যান্টাসীতে ভোগে।
চরম সংকটে নিমজ্জিত দেশীয় সঙ্গীত জগতকাজেই এদের পক্ষে জনে জনে সাহায্য প্রার্থনা করার সুযোগ নেই। ত্রাণসামগ্রী এদের কাছে পৌঁছবে না। তারাও এগুলো সংগ্রহে যেতে পারবেন না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে শিল্পী সমাজের নেতৃত্বে সংকট রয়েছে। এদের নেতৃত্ব এমনই ফালতু যে, শিল্পীদের এই সংকটময় মুহুর্তে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করে কোন কিছু আদায়ের সামর্থ্য রাখেন না। কিন্তু শিল্পীদের গান প্রচারের মাধ্যমে ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে উপার্জিত অর্থ অনায়াসেই আত্মসাৎ করে ফেলেন।
যে কোন জাতীয় দুর্যোগে এই শিল্পী সমাজ সরকারের পাশে দাঁড়ান। বিভিন্ন শোয়ের আয়োজন করে, তা থেকে অর্জিত অর্থ বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যয় করেন।
সরকার বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য নানা ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ দিচ্ছেন। সঙ্গীত শিল্পীদের জন্য এধরনের একটা কিছু করা দরকার। অথবা জামানত বিহীন সহজ শর্তে এদের জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সরকারের কাছে অনুরোধ – দয়া করে এই শিল্পী সমাজের কষ্টের কথা, মানবিক বিপর্যয়ের কথা, হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কথা একটু ভাবুন। এদের জন্য অনতিবিলম্বে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন! তবেই উপকৃত হবে শিল্পী সমাজ।
লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বসুধা বিল্ডার্স লিঃ