ক্ষুধার্ত প্রাণীদের পাশেও জায়েদ খান

এফডিসিতে শুটিং করার জন্য রয়েছে শুটিং ফ্লোর, ফুলের বাগান, অফিস করিডোর, আদালত ও স্কুল-কলেজ দেখানোর মতো ভবন। গানের শুট করার জন্য সাধারণত সেট নির্মাণ করা হয়, এ ছাড়া রয়েছে ঝর্ণার স্পট। রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, এডিটিং প্যানেল, ডাবিং থিয়েটার ও কনফারেন্স সেন্টার। এফডিসির সৌন্দর্য বাড়ায় প্রাণীরাও। অনেক গাছপালা থাকায় এই এলাকায় হরেক রকম পাখির আনাগোনা। দেখা যায় বানর, কাঠবিড়ালি, কুকুর-বিড়ালসহ অনেক প্রাণীকে।
করোনাভাইরাসের প্রকোপে স্তব্ধ জনজীবন। বন্ধ রয়েছে বিএফডিসি, লোকসমাগম নেই বললেই চলে। সাহায্য দিতে ও নিতে আসা মানুষের আগমনে পিছু নেয় অভুক্ত প্রাণীগুলো। যদিও তাদের দিকে খুব একটা নজর দেওয়া হয়নি।
এই প্রাণীগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চিত্রনায়ক জায়েদ খান। গত দুদিন ধরে তাদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের প্রকোপে যতদিন এফডিসি বন্ধ থাকবে, তিনি নিয়মিত এদের মুখে খাবার তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
জায়েদ খান বলেন, ‘আসলে এখন আমরা চলচ্চিত্রকর্মীরাই সমস্যায় আছি। তাদের জন্য কিছু করতে চাই, যে কারণে প্রতিদিনই সময় দিতে হচ্ছে। হঠাৎ করেই এফডিসির কুকুরগুলোর দিকে নজর গেল। দেখলাম, খেতে না পেয়ে সব কুকুর শুকিয়ে গেছে। কিছু খাবার এনে তাদের দিলাম, তাদের খাওয়া দেখে বুঝলাম তারা কতটা ক্ষুধার্ত ছিল। তখন নিজের মধ্যে একটা উপলব্ধি এলো, সিদ্ধান্ত নিলাম এখন থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করব। এফডিসির বানরগুলোকে খাবার দিলাম, ঝরনা স্পটে গিয়ে পাখিদের খাবার দিয়েছি।’
জায়েদ খান আরো বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু পাখি রেখেছি। প্রতিদিনই এগুলোর যত্ন নিতে হয়, খাবার দিতে হয়। এদের সঙ্গে এফডিসির অভুক্ত প্রাণীগুলোকেও খাবার দেওয়া হবে। আমাদের সমিতির অফিস সহকারী ও গেটের দারোয়ানদের এই দায়িত্ব দিয়েছি। তারা যেন প্রতিদিন সঠিকভাবে তা তদারকি করে। আমি নিজেও দেখভাল করব। এফডিসি যত দিন বন্ধ থাকবে, তত দিন আমি এই অভুক্ত প্রাণীগুলোর দায়িত্ব নিয়ে খাবার দেব, ইনশা আল্লাহ।’
এর আগে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয় আহসান ও আলোচিত মডেল নায়লা নাঈমকে অভুক্ত প্রাণীদের পাশে দেখা গেছে।
রোমান রায়