সহায়তায় এগিয়ে এলেন ‘টিম ইয়ংস্টার’

বিশ্বব্যাপী এক মহামারী আকারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় সরকার ১০দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। একইসাথে সকল গণপরিবহন ও সরকারী অফিস বন্ধ ঘোষণা করেছে। মধ্যবিত্ত মানুষেরা কোন রকমে এ দুযোর্গ মোকাবেলা করতে পারলেও বিপদে পরেছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। বিশেষ করে যারা রিক্সা, ভ্যান চালাক ও দিন মজুরদের আয় একদম শূন্যে নেমে এসেছে। কার্যত লকডাউন হয়ে থাকা দেশের এ সকল মানুষদের অনেকেই অসহায় দিন পার করছেন। তাদেরকে সহায়তায় এগিয়ে এলেন বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রজন্মের সক্রিয় কয়েকজন শিল্পীদের নিয়ে গঠিত ‘টিম ইয়ংস্টার’। শুক্রবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দিনমজুর, রিকশাওয়ালা, হকারদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছে এই টিম। প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণীর সময় উপস্থিত ছিলো টিমের সদস্য- জয় চৌধুরী, নাদিম, বিপাশা কবির, আঁচল, শিরিন শিলা, রোমানা নীড়, মডেল জারা টাইরা ও সারাকা মজুমদার। এদিকে মাঠে এই গ্রুপের আরও দুই জন সদস্য চিত্রনায়ক শিপন মিত্র ও সানজু জন উপস্থিত না থাকতে পারলেও সার্বিক সহযোগিতায় তাঁরা ছিলেন।
উচ্চবিত্তদের উদ্দেশ্যে করে চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সামর্থ কম, তাই আমরা সাধারণ কিছু সামগ্রী নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা অনেক টাকার মালিক। তাদের অনুরোধ করব, আপনারাও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সহযোগিতায় এই দুঃসময়ে খেটে খাওয়া মানুষগুলো এক বেলা খেতে পাবেন।
চিত্রনায়িকা আঁচল বলেন, জানি না কতটুকু পেরেছি তবে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করেছি গরীব ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। তাদেরকে সামান্য কিছু আহার দিয়ে সাহায্য করতে। আমাদের একটাই চেষ্টা সবাইকে ভালো রাখা। আসুন সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়াই। আমরা সচেতন হলেই পারবো পৃথিবীটাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে। আজ আল্লহ পাকের উসিলায় এইটুকু করতে পেরে সত্যিই অনেক শান্তি লাগছে।
চিত্রনায়িকা বিপাশা কবির বলেন, সকলের ছোট ছোট সাহায্যের হাত সমাজে এখন সবার জন্য বড় কিছু হতে পারে। প্রত্যেকরই এখন উচিত এই নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানো। আমরা কয়েকজন মিলে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা মাত্র। আজ এই সময়ে তাদের জন্য কিছু করতে পেরে মনে একটা প্রশান্তি কাজ করছে।
চিত্রনায়িকা রোমানা নীড় বলেন, ছোট একটু চেষ্টাই হতে পারে কিছু মানুষের মুখের হাসি। ডাল ভাত হলেও দুইদিন তারা খাবারের চিন্তা করবে না। এমন ভাবে যদি সবাই এগিয়ে আসে তাহলে খাবারের জন্য তাদের বাইরে যেতে হবে না। সবাইকে অনুরোধ করবো যে যার জায়গা থেকে তাদের পাশে এসে দাঁড়ান। দেখবেন বুকের কোথায় একটা শান্তি অনুভব করছেন। যেটা আমি পাই।
চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা বলেন, মনে অনেক শান্তি পাচ্ছি আজ এই দুর্দিনে কিছু অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পেরে। সবাইকে অনুরোধ নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী অসহায় মানুষদের সহযোগীতা করুন।
রোমান রায়