মুজিববর্ষে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

মুজিববর্ষ ঘিরে সর্বমহলে ব্যপক আলোচনা,উৎসাহ,উদ্দীপনার শেষ নেই। মুজিববর্ষ উৎযাপনে সারাবিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বগণ অংশগ্রহন করবেন। মুজিববর্ষে চলচ্চিত্রের কোন চমক আছে কি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের দায়িত্ব দিয়েছেন বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগালকে। শ্যাম বেনেগাল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের কাজ করে যাচ্ছেন।তিনি বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ব সংগ্রহ করেছেন।চলচ্চিত্রটি মুজিববর্ষ উপলক্ষে মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কয়েকবার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। খ্যাতিমান লেখক, কলামিস্ট, সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য তিনি গত কয়েকবছর বিভিন্ন রকমের প্রস্তুতি ও চেষ্টা করেছেন। এজন্য বিভিন্ন দেশে ঘুরে বঙ্গবন্ধুর উপরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন কিন্তু চলচ্চিত্রটি এখনও নির্মিত হয়নি এবং এমন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে জন্য যে পরিমান সময়, শ্রম, অর্থ লগ্নী দরকার তার সবকিছু সমন্বয় করে তিনি চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শেষ করতে পারবেন কিনা তা বলা যাচ্ছে না।
পরিচ্ছন্ন বিনোদন চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মডার্ণ ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল এর কর্ণধার মোশারফ হোসেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোয়েট অব পলিটিক্স (রাজনীতির কবি) নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে চিত্রগ্রহণ শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু ট্রাষ্ট্রের অনুমোদন পেলে মুজিববর্ষকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ শুরু হবে। এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুর্দান্ত দাপট, ঘরের লক্ষ্মী, বউ শ্বাশুড়ীর যুদ্ধ, ফুলের মত বউ, তুমি আমার মনের মানুষ”সহ অনেকগুলো বিনোদন চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পূর্বকালে প্রাদেশিক সরকারের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে এফডিসি প্রতিষ্ঠা বিল উত্থাপন করেন এবং বিলটি পাশ হলে এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু এ বিলটি উত্থাপন করেন ১৯৫৭ সালের ৩রা এপ্রিল। সে কারণে সাংবাদিক সমাজ এবং গণমানুষের দাবীকে সম্মান দেখিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩রা এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ঘোষণা করেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্রকে তিনি সরকারীভাবে শিল্প ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ সংস্কৃতি এবং চলচ্চিত্র শিল্প উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর উপহার এফডিসিতে দেশের অসংখ্য গুণী চলচ্চিত্র পরিচালক হাজার হাজার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন । সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শতাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়া উচিত ছিল এমন কথাই বলেছেন সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগন।
ঢাকার শিল্পকলা একাডেমীতে সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। উতসবের উদ্বোধক ততকালীন মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরামকে আহ্বান জানান এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। উতসবে অন্যান্য দিন ততকালীন মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এম.পি, ততকালীন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এম.পি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এম.পি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পীকার এড. ফজলে রাব্বি মিয়া এম.পি, চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এম.পি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এম.পি, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, কবি কাজী রোজি এম.পি, সহ সকলেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ততকালীন চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এম.পি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মাঠে ময়দানে সরাসরি কাজ করার ঘোষণা দেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বেসরকারীভাবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের অনুমতি প্রদান করলে দেশের গুনী চলচ্চিত্র নির্মাতারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুন্দর সুন্দর চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারবেন।এতে করে মুজিববর্ষ উৎযাপনের আনন্দ আরো বেশী কানায় কানায় পূর্ন হবে বলে বঙ্গবন্ধুপ্রেমিরা মনে করছেন ।
সালাম মাহমুদ, সিনিয়র সাংবাদিক