ঋতুপর্ণার আজীবনের আক্ষেপ

বাড়িতে এবং বাইরে সমানতালে নিজস্ব দক্ষতায় সব কিছু সামলে চলেছেন। ছেলের পড়াশোনা, মেয়ের দেখভাল, নিজের প্রোডাকশন হাউস, শুটিং, স্ক্রিপ্ট রিডিং, ইভেন্ট- সবকিছুতেই তার লা জবাব। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অভিনয় জগতে চলাফেরা করছেন। নানাভাবে নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন। প্রতিনিয়ত তাকে নতুন নতুন চরিত্রে দেখা যায়। অবাক হতে হয়, এই ব্যস্ততাতেই বুঝি তার শিল্পীসত্তার পূর্ণতা।
কিন্তু থেকে যায় অজানা অনেক গল্প। সেই গল্পের নাম ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই সম্রাজ্ঞী তার নিজগুণেই রয়েছেন শীর্যস্থানে। ‘দহন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। এছাড়া অজস্র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। তবুও নায়িকার মনে রয়েছে এক দীর্ঘ আক্ষেপ। যে আক্ষেপ কোনোদিনই মিটবার নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণাই জানান সেই আক্ষেপের কথা। প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দহন’ এবং ‘উৎসব’ ছবি দুটিতে অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা। এরপর তাকে নিয়ে আরেকটি ছবির পরিকল্পনা করেছিলেন পরিচালক। কিন্তু তখন ঠিকমতো সময় বের করতে পারছিলেন না বলে সেই ছবিতে অভিনয় করেননি ঋতুপর্ণা। তারপর অবশ্য পরিচালক ঋতুপর্ণ সেই ছবিতে আর হাতই দেননি।
তিনি বলেছিলেন, ঋতুপর্ণা ছাড়া ওই চরিত্রে অন্য কাউকে তিনি ভাবতেই পারবেন না। সেই ছবির চিত্রনাট্যও পরিচালক ঋতুপর্ণ শুনিয়েছিলেন ঋতুপর্ণাকে। ২০১৩ সালের এক বৃষ্টিভেজা দিনে হঠাৎই না ফেরার দেশে চলে যান ঋতুপর্ণ। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে। সাক্ষাৎকারে প্রয়াত এ পরিচালকের সেই ছবিটিতে অভিনয় করতে না পারার আক্ষেপের কথাই বলেছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা। সুপারহিট এই নায়িকা আরও জানান, ১৯৯২ সালে ‘শ্বেত পাথরের থালা’ দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু। এরপর অসংখ্য চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। কিন্তু ঋতুপর্ণা মনে করেন, তিনি যে রকম চরিত্রে অভিনয় করতে চান, তার মাত্র অর্ধেক এখনও পর্যন্ত করতে পেরেছেন। তার স্বপ্নের বাকি চরিত্ররা এখনও অধরা। নায়িকার আক্ষেপের এটাও একটা কারণ।
সামনেই মুক্তি পাবে ঋতুপর্ণা অভিনীত তিনটি ছবি। ‘লাইমলাইট’, ‘পার্সেল’ এবং ‘বিদ্রোহিনী’। এর মধ্যে রেশমি মিত্রের পরিচালনায় ‘লাইমলাইট’-এ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আগামী মাসে মুক্তি পাবে সেই ছবি। এছাড়া ঋতুপর্ণা শুটিং শেষ করেছেন ‘বেলা শুরু’ এবং ‘দত্তা’ নামে আরও দুটি ছবির।
আলমগীর কবির