নিয়মিতই চলচ্চিত্র প্রযোজনা করবো

আনোয়ার আজাদ, কানাডার টরেন্টোতে স্থায়ী বসবাস করছেন এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া’র সভাপতি। সম্প্রতি বাংলাদেশে চলচ্চিত্র প্রযোজনার সাথে জড়িত হয়েছেন এবং তার প্রথম প্রযোজিত ছবি ‌‌মায়াবতী। মায়াবতী ছবির মুক্তি উপলক্ষে সম্প্রতি তিনি ঢাকায় এসেছেন এবং চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিনোদন বিচিত্রার প্রতিবেদক রোমান রায়ের সাথে কথা বলেন।

বিনোদন বিচিত্রাঃ আপনার প্রথম প্রযোজিত সিনেমা ‘মায়াবতী’ দর্শকদের কাছে কেমন সাড়া পেলেন?
আনোয়ার আজাদঃ ভীষণ ভীষণ ভালো সাড়া পেয়েছি সবার কাছ থেকে।দর্শকরা হলে এসে ‘মায়াবতী’ দেখছেন প্রশংসা করছেন এটা আমার জন্য অনেক কিছু।আর দর্শকরা যদি পছন্দ না করতো তাহলে তো ২য় সপ্তাহ পার করে ৩য় সপ্তাহ সিনেমা হলে চলতো না। যেখানে এখনকার সিনেমাগুলো খারাপ গেলে ১ম সপ্তাহের পরই হল থেকে নামিয়ে ফেলে।
বিনোদন বিচিত্রাঃ তাহলে কি আপনি ‘মায়াবতী’ নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট?
আনোয়ার আজাদঃ অবশ্যই আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট ‘মায়াবতী’ নিয়ে। এতো সুন্দর একটি সিনেমা বানিয়েছেন আমাদের নির্মাতা অরুণ চৌধুরী এবং সিনেমার সকল অভিনয়শিল্পী ভালো অভিনয় করেছেন।মায়াবতী’কে সবাই যেভাবে সাপোর্ট দিয়েছে তাতে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়েছি।
বিনোদন বিচিত্রাঃ এখন বাংলা চলচ্চিত্রে ক্রান্তিকাল চলছে,এমন অবস্থায় আপনি সিনেমায় অর্থ লগ্নি করাটা কি ঝুঁকি মনে করেননি?
আনোয়ার আজাদঃ আমাদের এই দুরাবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসতে কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে। তাই কোনো রকমের দ্বিধা বা ঝুঁকি এগুলো মাথায় রাখিনি। ভালো কিছুর জন্য তো একটু রিস্ক নিতেই হয়।তাই আমিও নিয়েছি বলতে পারেন।আমি অনেকদিন ধরে বাহিরে থাকি।আমরা যারা বাহিরে থাকি আমাদের এভাবে করে আমাদের চলচ্চিত্রের পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করি।মানুষকে উৎসাহ দিতে হবে,সিনেমা হলে দর্শকদের আনতে হবে।
বিনোদন বিচিত্রাঃ আপনি কানাডায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া’এর সাথে কবে থেকে আর কিভাবে যুক্ত হলেন?
আনোয়ার আজাদঃ আমি এটার সাথে শুরু থেকেই আছি।এটা প্রতিষ্ঠাতা আমার বন্ধু।আমি এর প্রতিষ্ঠিত হবার ২য় বর্ষ থেকে যুক্ত আছি।আমি এই উৎসবের বাংলা সিনেমাগুলো যুক্ত করি।১৮টি ভাষার সিনেমা এই উৎসবে প্রদর্শন হয় তার মধ্যে বাংলা ভাষার সিনেমা অন্যতম।
বিনোদন বিচিত্রাঃ কানাডায় বাংলা সিনেমার দর্শক কেমন হয়?
আনোয়ার আজাদঃ আমরা উৎসবটা বছরের মে মাসের ২য় সপ্তাহে করে থাকি।উৎসবে যখন বাংলা সিনেমাগুলো প্রদর্শন হয় আমরা তখন থিয়েটারে দর্শকপূর্ণ পাই। স্থানীয় কানাডিয়ান তারা কম আসে।কিন্তু বাংলা সিনেমা নিয়ে তাদেরও আস্তে আস্তে আগ্রহ জাগছে।
বিনোদন বিচিত্রাঃ আমাদের বাংলা সিনেমায় তো এখন নানান সমস্যায় জর্জরিত,আপনার কাছে তার উত্তরণে কোনো উপায় কি?
আনোয়ার আজাদঃ বেশী করে সিনেপ্লেক্স কিংবা সিনেস্কোপ বানাতে হবে।এবং সিনেমা হলোগুলো আধুনিকায়ন করতে হবে।সিনেমা হলের পরিবেশ সুন্দর না হলে মানুষ সিনেমা হলে এসে সিনেমা দেখবেন না।তাই আগে সিনেমা হল উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
বিনোদন বিচিত্রাঃ আপনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন।নিজে বাংলা সিনেমার সাথে আছেন।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা সিনেমাকে আরো বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা কি আছে আপনার?
আনোয়ার আজাদঃ হ্যাঁ,আছে।আমি শুরুটাই করতে চাই ‘মায়াবতী’ দিয়ে।আমার ইচ্ছে আছে ইল্যান্ড,অস্ট্রেলিয়া,আমেরিকা,কানাডাসহ বিশ্বের বড় বড় দেশে মুক্তি দেয়া। এরপর আমি ধারাবাহিক ভাবে এটা করে যেতে চাই।
বিনোদন বিচিত্রাঃ প্রথম সিনেমায় সফলতা লাভ করলেন।এখন থেকে কি নিয়মিত বাংলা সিনেমা প্রযোজনা করবেন?
আনোয়ার আজাদঃ আমি এখন থেকে নিয়মিতই বাংলা সিনেমা প্রযোজনা করবো এবং সবাইকে উৎসাহ দিবে বাংলা সিনেমার পাশে থাকার জন্য।