মোনাকো যাওয়ার ইচ্ছা ছোটবেলা থেকেই : কাজী আসমা

মোনাকো যাওয়ার ইচ্ছা আমার খুব ছোটবেলা থেকেই যখন থেকে জেমস বন্ডের মুভি দেখি। ইচ্ছে ছিল ১৭ আগস্ট মোনাকোতে আসব ১১১ তম দেশ করার জন্য কিন্তু পাসপোর্ট চুরি হয়ে যাওয়ায় সেই আর স্বপ্ন পূরণ হলো না। তাতে কি হয়েছে জীবন তো আর থেমে থাকে না ,একমাস পর ঠিকই চলে আসলাম আমার সেই স্বপ্নের রাজ্যে ,যদি হয় স্বপ্ন তবে অবশ্যই সেটা পূরণ করা অসম্ভব কিছু না। দরকার একটু একাগ্রতা এবং প্রপার জ্ঞান এবং শক্তি এবং কর্মদক্ষতা থাকলেই, তাহলেই আপনি পারবেন আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে। তাইতো আমিও এত কিছুর পরে পাসপোর্ট হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে আবারও নিজেকে গুছিয়ে চলে এসেছি ১১২ তম দেশ করতে মোনাকোতে। আর আমার স্বপ্ন কখনো অপূর্ণ থাকবে না কারণ আমার আছে একাগ্রতা এবং কখন কর্মদক্ষতা এবং তার সাথে আছে অসাধারণ আমার কিছু ফ্রেন্ড পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যার ভালোবাসা এবং সহযোগিতা আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করে।
তাইতো আমি ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ থেকে সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে পৃথিবীর বুকে পা রাখলাম ১১২ দেশে বিশ্বভ্রমণে।পৃথিবীর ভিতরে সবচেয়ে ছোট ধনী দেশ, যেখানে সুন্দর সুন্দর বাড়ি সুন্দর ক্যাসিনো আছে । এটি আয়তনে পৃথিবীর ২য় ক্ষুদ্রতম, ঠধঃরপধহ ঈরঃু থেকে এই টুকু বড় এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনঘনত্ব-বহুল রাষ্ট্র। আরে ভাই, আমি মেয়ে বলে কখনোই দেবে থাকেনি, আর যারা বলে আমার পাসপোর্ট অনেক অনেক ভারী, তাদের জন্য বলা, এখনতো আমার ভাই পাসপোর্ট এই নাই একটা ছোট পাসপোর্ট আছে তাও আবার নতুন।তো এখন আমি সাধারন বাঙালি নতুন পাসপোর্টের মতোই আমার এক্সপেরিয়েন্স এবং আমাকেও ইমিগ্রেশন জাজ করে অনেক ভাবে। তবে একটা কথা বলতে হবে আমার সৌভাগ্য আছে, আর আজকে আমার সুন্দর বাবা-মা যারা আমাকে সমস্ত সময় সাহায্য সহযোগিতা করেন,এবং তাদের পয়সায় চলে আসলাম সুন্দরম শহরে ঘুরতে গতকাল রাতে,তবে ভাই ,বাবা-মা টাকা থাকলে কি হবে? আমার নিজেরও তো টাকা আছে, টাকা তো ইনকাম করতে হবে মেয়ে বলে আমাকে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না ,আমার বাবা কখনোই ছাড় দেয়নি। আর যেসব আরেকটু বলে রাখি,যারা আমার ইনকাম নিয়ে প্রশ্ন করেন তাদের তাদের মাথায় কি আছে, আমার মাথায় ঢুকে না ভাই, বাংলাদেশের পাসপোর্টে কোন দেশের ভিসা কি দেয় আমার যদি ইনকাম না থাকতো? নিশ্চয়ই আমার ভালো ইনকাম আছে সেজন্যই আমাকে ভিসা দেয়। বুঝতে হবে?
চলুন একটু গড়হঃব ঈধৎষড় শহর থেকে ঘুরে আসি আর দেখেই এটা পৃথিবীর হচ্ছে সবচেয়ে দ্বিতীয় ছোট দেশ মাত্র ২ কিলোমিটার।এর জনসংখ্যা আনুমানিক ৩৭ হাজার। দেশটি ফ্রান্সের দক্ষিণ পূর্বে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত। দেশের প্রধান প্রিন্স আলবার্ট। পর্যটন শিল্প দেশটির প্রধান চালিকা শক্তি। এর প্রধান আকর্ষণ কাসিনো বা জুয়াখেলার আখড়াগুলি। দেশের জনগন কে কোন আয়কর দিতে হয়না। এমন যদি হতো তাহলে অনেক ভালোই হতো অন্যান্য দেশে আয়কর দিতে হয় না। সরকারীভাবে রাজধানী না থাকলেও সবচেয়ে বিত্তশালী চতুর্থাংশ মণ্টি কার্লোকে মোনাকোর কেন্দ্র বলা হয়। এই ক্যাসিনোতে ভিতরে ঢুকে খুবই অবাক হয়েছি এটা খুবই ছোট, এবং এখানে ঢুকতে ১৭ ইউরো দিতে হয়। জুয়াখেলার অঙ্কের যে তত্ব প্রযোয্য সেই প্রোবাবিলটি বা সম্ভাবনা তত্বের এক বিখ্যাত পদ্ধতির নাম মণ্টি কার্লো মেথড।
সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশকে আমরা ঘনবসতি দেশ বলে থাকি কিন্তু এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৮০০০ বেশি লোক বাস করে এবং এটা কে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতি দেশ বলা হয়। এই দেশটি প্রথম স্বাধীনতা লাভ করে বারোশো শতাব্দীতে, পরবর্তীতে ১৯১১ সালে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই দেশটির চালিত হয়।
এখানকার মানুষেরা ফরাসি ভাষায় কথা বলে এবং এখান থেকে ইউরোপ হচ্ছে এখানকার মুদ্রা। এটা ১৮ শতাব্দীতে হচ্ছে ব্রিটিশদের সবচেয়ে সামার ভ্যাকেশন নামে পরিচিত একটি জায়গা। পৃথিবীর বড় বড় ধনী ধনী ব্যক্তিরা এখানে একসময় সামার ভ্যাকেশন এর জন্য আসতো এবং এখনো আসে।
এখানে সাধারণত সবকিছুই অনেক দামি, শুধুমাত্র গপ এর দামি প্রায় ১১ ইউরো, যেখানে অন্যান্য দেশে ছয় থেকে সাত ইউরো থাকে এটা থেকে বোঝা যায় এই দেশের সবকিছু কতটা দামি। এখানে যদি রাত কাটাতে হয় তাহলে মিনিমাম ২০০ থেকে ৩০০ ইউরোর ভিতর সুন্দর সবচেয়ে কম দামে হোটেল পাওয়া যায় এবং খেতে গেলে ভালো কোন রেস্টুরেন্টে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ ইউরো পারভারসনের খাবারের দাম।
ও আরেকটু কথা সবচেয়ে বড় কথা যেটা হচ্ছে সেনজেন ভিসায় মোনাকোতে এসেছে কিন্তু এবং আপনিও সেনজেন ভিসা থাকলে মনা কোথায় আসতে পারবেন। আর যারা একটু সস্তায় যদি থাকতে চান এখানে তাহলে ফ্রান্সের নিস শহরে থেকে এখানে মাত্র ১.৫ ইউরো তে বাসে চড়ে মাত্র ৫৫ মিনিটে রাইট করে আসতে পারেন এখানে আমি সত্যিই অনেক সুন্দর।
কাজী আসমা আজমেরী, ইতালি থেকে