নাটকের স্বাভাবিক গতি বন্ধ করে দিচ্ছে সিন্ডিকেট : চঞ্চল চৌধুরী

আমি জানি, সিন্ডিকেট হচ্ছে। পত্রপত্রিকা সব কিছু মিলিয়েই কিন্তু সিন্ডিকেশন। সাংবাদিকরাও এর বাইরে যেতে পারছেন না। কারণ ভিউ বাণিজ্যের এই যুগে যাঁদের নাটকগুলো নিয়ে লেখা হচ্ছে, সে নাটকগুলো নিয়ে তো পত্রিকাও লিখছে। এবার ঈদে আমার দেখা একটি নাটক ‘জয়েন ফ্যামিলি’। হাতে গোনা দু-একটি পত্রিকা ছাড়া নাটকটি নিয়ে কেউ লেখেনি। যে ১০ নাটক নিয়ে লেখা হলো, সেখানে যে ভালো নাটক নেই তা বলব না, তবে অযোগ্য নাটকই বেশি। শুধু ভিউ দেখে আর পার্সোনাল সম্পর্কের কারণে তালিকায় উঠেছে। এটাই হলো সিন্ডিকেশন। সব সময়ই কমবেশি ছিল এটা। কিন্তু এখন সুস্থ-সুন্দর ভালো নাটকগুলো সাইড করে রাখা হচ্ছে। যাঁরা টিভি নাটকের ব্যবসাটা করেন, তাঁদের হাতে গোনা কয়েকজন আর্টিস্ট-ডিরেক্টর আছেন। তাঁদের নাটকই তাঁরা প্রমোট করেন এবং মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ করাবেন। এক রাতের মধ্যে মিলিয়ন ভিউ হয়ে যায়! কিভাবে সম্ভব? আমরা কি দেখি না যে গল্প-অভিনয়-নির্মাণটা কেমন? এত বছর ধরে অভিনয় করছি, কিছু তো বোঝার ক্ষমতা হয়েছে! যেসব শিল্পী নাটকে সিন্ডিকেশন করছে তারা শুধু নিজের পকেটের অবস্থাই ভালো করছে। সিন্ডিকেশনের শিল্পীরা যে পরিমাণ পারিশ্রমিক নিচ্ছে সেটা অবাক করার মতো। এজেন্সি বা প্রডিউসাররা তো জানে, আমি বুস্ট করে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ করাব, ওকে আমি বেচব। আর এই ভিউওয়ালা আর্টিস্ট নিজের মাথা বিক্রি করে ধ্বংস করছে নাটক। টিভ নাটকের যে সুস্থ-সুন্দর একটা গতি ছিল, সেটা এই সিন্ডিকেট বন্ধ করে দিচ্ছে। আমিও প্রস্তাব পেয়েছিলাম, ‘আপনাকে নিয়ে এই ঈদে সব নাটক বানাব’, ‘না’ করে দিয়েছি। তার কাছে বিক্রি হয়ে গেলে সে যে গল্প দেবে তা-ই করতে হবে, সেটা তো পারব না। সহকর্মী অনেককেই দেখেছি এই সিন্ডিকেশনে ঢুকে যাচ্ছেতাই স্ক্রিপ্টে বিক্রি হয়েছে। ১০ জন আর্টিস্ট যদি মনে করি, আমরা সিন্ডিকেশনে যাব না, ভালো ডিরেক্টর, সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করব—তাহলেই সব চেঞ্জ হয়ে যায়। চ্যানেলগুলো সৎ হয়ে বলতে পারে, মানসম্পন্ন নাটক ছাড়া প্রচার করব না। মানহীন নাটকে যত বড় তারকাই থাকুক না কেন, প্রচার করব না।
রোমান রায়