ঈদে প্রশংসিত নাটক ‘আশ্রয়’

বৈচিত্র্যহীন গল্প আর এই মুখ বারবার দেখে দর্শকরা যখন বিরক্ত। তখনই ভিন্ন কিছু উপহার দেয়ার প্রয়াস নিয়ে হাজির এই সময়ের জনপ্রিয় ও মেধাবী নাট্যনির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ্। এবারের ঈদ উপলক্ষ্যে তাঁর নির্মাণে আঠারোটি নাটক প্রচারিত হচ্ছে।ভিন্ন ভিন্ন গল্পের আমেজে বিভিন্ন কলাকুশলীদের নিয়ে তিনি নাটকগুলো নির্মাণ করেছেন।তাঁর নির্মিত নাটকগুলো বরাবরই দর্শক মহলে বেশ প্রশংসিত হোন।ব্যতিক্রম হয়নি এবারও।এবারের ঈদে তাঁর নির্মিত নাটকগুলোর মাঝে এখন পর্যন্ত সেরা নাটক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ‘আশ্রয়’। শুধু তাঁরই নির্মাণের মাঝেই ‘আশ্রয়’ সেরা নয়,এবারের ঈদে সকল নাটকের মাঝে সেরা বলে সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন।আকবর হায়দার মুন্নার রচনায় ‘আশ্রয়’ নাটকটি সর্ব মহলে সবার কাছে খুব প্রশংসা পাচ্ছে।সমাজের চিরচেনা পারিবারিক সুখ,শান্তি, কষ্ট আর ভুলগুলো খুব নিখুঁত ভাবে ‘আশ্রয়’ নাটকে নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ্ তুলে ধরেছেন।গল্পে দেখা যায় এক এতিম দম্পতি, যারা সারাটা জীবন হেঁটেছে অচেনা এক গন্তব্যে। তাদের আশপাশের সবাই যখন তাদের ছোট্ট আঙুলের ভাঁজে খুঁজে পেয়েছিল নির্ভরতা, সেখানে তাদের আঙুলের ভাঁজে খেলা করেছে শুন্যতা। তাদের জানালার গরাদে লেগে থাকতো একরাশ বিষাদ। প্রতিদিন শুরু হতো অদ্ভুত এক শুন্যতায়, যে শুন্যতা দূর করার মতো কেউ ছিল না। এই শুন্যতা হচ্ছে বাবা-মায়ের শুন্যতা, একটি নির্ভরতার আশ্রয়ের শুন্যতা। এ যেন সমুদ্রের অতল, ডুবে যেতে হয় না চাইলেও। ছোট থেকে প্রচন্ড কষ্ট বুকে ধারণ করে বড় হওয়া দুইটা এতিম এক হয়ে সংসার শুরু করলো। সংসারে সব আছে, নেই শুধু পূর্ণতা।
গল্পে আছে আরও এক দম্পতি, যারা আলাদা হয়ে আছে ১৩ বছর ধরে। যাদের দেখা নেই ১৩ বছর ধরে। দুইজন আছে দুই আশ্রমে, কেউ জানেও না কে কোন আশ্রমে আছে। এই দম্পতি তাদের সন্তানদের জন্য তৈরি করেছিল সুখের একটি নীড়, জোছনাবিলাসের আশ্রয়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, তাদের বানানো আশ্রয়ে আশ্রয় পেলো না তারা নিজেরাই! এমনকি আলাদা হয়ে যেতে হয়েছে তাদেরকেই! যে সন্তানদের জন্য বাবা-মায়ের এত ত্যাগ-তীতিক্ষা, সেই সন্তানদের কাছেই তারা বোঝা। তাই তীব্র এক কষ্ট বুকে নিয়ে তাদের দিনগুলি যাপিত হচ্ছিল নীরবে-নিভৃতে।
দুইরকম কষ্ট বুকে ধারণ করা এই দুই দম্পতি এক সময় এক হয় ছোট্ট একটি মেয়ের কারণে। জীবনের নতুন ‘আশ্রয়’ মিলে তাঁদের।এমনই এক অসাধারণ গল্পে সাজানো হয়েছে ‘আশ্রয়’ নাটকে। সেই চিরচেনা ছন্দে না গিয়ে এবার নির্মাতা হেঁটেছেন অন্য এক পথে, সুন্দর এবং সময়পযোগী এক গল্প সাথে নিয়ে। একঘেয়ামি রোগে আক্রান্ত দর্শকরা এখন যে ধরনের গল্প খুঁজেন, ‘আশ্রয়’ ঠিক সেরকম গল্প। এই গল্পে গভীরতা আছে, ছন্দ আছে, আবেগ আছে, আছে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুজন মানুষ বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয়তার কথা। যে সময় শহরে শহরে বৃদ্ধাশ্রম বেড়ে যাচ্ছে, বৃদ্ধাশ্রমে দুঃখী মানুষগুলোর সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে, একটা বয়সের পর বাবা-মা’র ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হয় কবে তাদের সন্তান তাদের বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসবে, সেই সময় এই গল্পটা খুব বেশিই দরকার ছিল। ‘আশ্রয়’ নাটকে নেই কোনো অতিনাটকীয় ব্যাপার, নেই কোনো কমেডির নামে সস্তা ভাঁড়ামো, আছে পরিচ্ছন্ন একটি গল্প। আর আছে নির্মাতার একটি ম্যাসেজ, যে ম্যাসেজটি বর্তমানে প্রতিটা পরিবারে খুব বেশি দরকার।’আশ্রয়’ নাটক অভিনয় করা প্রধান অভিনয়শিল্পীরা মোশাররফ করিম,তাহসান খান,নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং জাকিয়া বারী মম প্রত্যকেই যে যাঁর জায়গা থেকে চমৎকার অভিনয় করেছেন।নাটক সম্পর্ক নির্মাতা বান্নাহ্ বলেন,বর্তমান সময়ে পারিবারিক কেন্দ্রিক নাটক কম হয় বলেই,সে জায়গা থেকে দর্শকদের জন্য এমন এক গল্পের নাটক নিয়ে আসলাম।নাটকটি আরটিভিতে প্রচার হওয়ার পর থেকেই খুব প্রশংসা পাচ্ছি।সব শ্রেণীর দর্শকরা নাটকটি পছন্দ করেছেন।আমাকে এমন এমন মানুষরা প্রশংসা করছেন সত্যি আমি তা কখনোই আশা করিনি।আমার ভীষণ ভালো লাগছে।আমরা ‘আশ্রয়’ নাটকটি করতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছি।এখন সকলের ভালোবাসা পেয়ে আমাদের সবার কষ্ট সার্থক হয়েছে।আমি সব সময়ই চাই দর্শকদের পছন্দ’কে গুরুত্ব দিয়ে নাটক নির্মাণ করতে,এবং ভবিষ্যৎ-এ আমি তাই করবো।
রোমান রায়