গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক সলিল চৌধুরীর জন্মদিনে স্মরণ

“আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, ধান দেবো মেপে”, “আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা”, “পথ হারাবো বলে আমি পথে নেমেছি”, “ওগো আর কিছু তো নয়”, “না যেও না রজনী এখন বাকী”, “যা রে যারে উড়ে যারে পাখি”, “সাত ভাই চম্পা জাগোরে জাগোরে”…. এসব গান কি কোনদিন হারিয়ে যেতে পারে? এসব গানের স্রস্টা সলিল চৌধুরী যতই বলুন, “আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা”, ঠিক বলেন নি। উনার ঠিকানা ঝড়ের কাছে নয় সুরের আকাশে, বাংলা, মালায়লাম, তেলেগু কিংবা হিন্দী ভাষাভাষী মানুষের কাছে। গীতিকার, গল্পকার, সংগীত পরিচালক, সুরকার এবং গায়ক সলিল চৌধুরী। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যার অবদান ভুলে যাবার নয়। ১৯৪৪ সালে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বঙ্গবাসী কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সময়ই তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক দল ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ তে যোগ দেন। এ সময় তিনি গণসঙ্গীত লিখতে এবং এর জন্য সুর করা শুরু করেন। ‘বিচারপতি তোমার বিচার’, রানার এবং অবাক পৃথিবীর মত গানগুলো তখন সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৪৯ সালে তার প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র “পরিবর্তন” মুক্তি পায়। ১৯৫৩ সালে বিমল রায় পরিচালিত ‘দো ভিঘা জামিন’ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সলিল চৌধুরীর হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন। এটি ছিলো সলিল চৌধুরীর লিখা ‘রিক্সাওয়ালা’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত। এটি ফিল্মফেয়ার সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার অর্জন করে। সলিল চৌধুরী ১৯২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। গণজাগরণের, বাঙলার গণনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যাক্তিত্ব সলিল চৌধুরীকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি।

মুজতবা সউদ