সত্যিই জানতাম না ফারুক এখানে আছে : কবীর সুমন

দীর্ঘ ১৩ বছর পর ঢাকার মঞ্চে। জীবন খেয়ার এই গোধূলি বেলায় এসে শরীর যার অনেকটাই কথা শোনে না। সেই তিনিই একের পর এক গান গেয়ে মঞ্চ মাতালেন। কণ্ঠকে শোনালেন, আজ আমি প্রাণের দেশে প্রাণখুলে গাইব। ছড়িয়ে দেব সুরের মূর্ছনা। মঞ্চে শুধুই কি গান হবে? না, সেখানে কিছু মান-অভিমান থাকবে, ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে, স্মৃতি রোমান্থন হবে। হলোও তাই। কথা প্রসঙ্গে ওঠে এলো জার্মানি থাকার সময়কার কথা। জার্মান বেতারের বাংলা বিভাগে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় লাল-সবুজের দেশের কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে। তাদের নাম-স্মৃতির মানসপটে জ্বলজ্বল করলেও নেই যোগাযোগ। তোমরা কি আছো এখানে? নাকি অনেকের মতো পাড়ি দিয়েছো দূর গন্তব্যে? তাদের একজন শাহজাহান ফারুক। গায়ক যখন বললেন, ‘আমি জানি না শাহজাহান ফারুক এখানে আছেন কিনা’। কথা শেষ না হতেই দর্শক সারি থেকে একটি হাত উঁচুতে উঠলো, আশপাশ থেকে সজোরে বলা হলো, ‘আছে…’। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকিত, বিস্মিত হলেন কবীর সুমন। লোকজনকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘আমাকে ধরো, দাঁড়াতে হবে।’ সেই সঙ্গে সাংবাদিক শাহজাহান ফারুককেও মঞ্চে উঠে আসতে বলেন। হারিয়ে ফেলা সেই বন্ধুকে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন সুমন। আবেগে ভাসেন, তার চোখ ছলছল করে। অকপটে জানালেন, খুব কষ্টে কান্না চেপে রাখছেন। কিন্তু না, পুরোটা পারলেন না; অগত্যা রুমাল দিয়ে চোখজোড়া মুছতেই হলো সুমনকে। না, এটা কোনো রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ নয়। স্ক্রিপ্টেড কোনো ব্যাপার-স্যাপারও জড়িত নয়। মা কালীর দিব্যি ‘আমি সত্যিই জানতাম না ফারুক এখানে আছে’— বললেন সুমন। মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) একই ভেন্যুতে তিনি গাইবেন আধুনিক বাংলা খেয়াল। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) ফের শোনাবেন আধুনিক বাংলা গান। এরপর উড়াল দেবেন নিজ শহর কলকাতায়। উল্লেখ্য, নব্বই দশকের শেষ ভাগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসে গান করেছিলেন কবীর সুমন, তখন কোনো পারিশ্রমিক নেননি তিনি। টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ তহবিলে দিয়েছিলেন এই প্রথিতযশা সংগীতজ্ঞ।

মোহাম্মদ তারেক