আজমেরী বাঁধন `সে কি এই চরিত্রটি ক্যারী করতে পারবে?’

আজমেরী হক বাঁধন। বাঁধন মানেই দুই বাংলায় চমক। গত বছরে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে সবার মাঝে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন এই লাক্স তারকা। তাঁর সঙ্গে সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন- আফজাল হোসেন

কেমন আছেন সুলতানা?

ভালোই তো আছি। হাহাহা…সুলতানা! এটা অবশ্য সম্প্রতি করা একটি ওয়েব সিরিজে আমার চরিত্র। সিরিজটির নাম ‘গুটি’। যেখানে আমাকে দেখা যাবে সুলতানা নামের একজন ড্রাগ ডিলারের চরিত্রে। কাজটা আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। কতটা চ্যালেঞ্জিং তা আসলে দর্শক দেখলেই বুঝতে পারবেন। দেশীয় একটি প্লাটফর্মের জন্য নির্মিত এই সিরিজটির নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত।

কতদিন শুটিং করেছেন? সিরিজটিতে আরও কে কে আছেন?

১৪ দিন শুটিং করেছি। চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ ঢাকার বিভিন্ন রিয়েল লোকেশনে সিরিজটির শুটিং হয়েছে। এটিতে শাহরিয়ার নাজিম জয়, মৌসুমী হামিদ, শিশুশিল্পী আরিয়া অরিত্রাসহ বেশকিছু দুর্দান্ত অভিনয়শিল্পী আছেন।

গত ৪-৫ বছরে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দর্শক খুঁজে পাচ্ছে। আপনার কি মনে হয়, পূর্বে আপনাকে এক্সপ্লোর করার ঘাটতি ছিল এই ইন্ডাষ্ট্রির?

এই ইন্ডাষ্ট্রির একটি বিষয় আছে, একটি চরিত্র ক্লিক করলে সেটাই ফিক্সড হয়ে যায়। কোন শিল্পী একটা চরিত্র ভালো করলে ঐ রকম চরিত্র ছাড়া ভিন্ন রকম ও চ্যালেঞ্জি কোন চরিত্রে ডাক পায় না খুবই সহজে। নির্মাতা-প্রযোজকদের মনে সর্বদায় একটি বিষয় থাকে, ‘সে কি এই চরিত্রটি ক্যারী করতে পারবে?’ যেমনটি আমার ক্ষেত্রেই অনেকেই ভেবেছিলেন ২০১৮ সালের আগে। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন সৃজিত ও অনিন্দ্য। তারা আমাকে ভাবনায় রেখেছিলেন বলেই ‘মুসকান জুবেরী’ চরিত্রটি করেতে পেরেছিলাম। অন্যদিকে সাদও ভেবেছিলো বলেই ‘রেহানা মারিয়াম নূর’র মতো একটি কাজ আমার দ্বারা করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর করলাম বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’তে অক্টোপাস আর সর্বশেষ শঙ্খদাশ গুপ্তের ‘গুটি’র সুলতানা চরিত্র। এরা আমাকে নিয়ে ভেবেছেন। যদিও সোশ্যাল-ইকোনমিক্যাল চেহারার সাথে সুলতানা যাবে না বলে কেউ কেউ ভেবেওছিলেন। তবে আমি বলবো ২০১৭ এর আগ পর্যন্ত আমি কাজগুলো ইনজয় করতাম না। তখন ভালো লাগতো না। তখন এ্যাকটিং এর জন্য নিজেকে ফোকাস করতে পারিনি। তবে এখন যা করছি, ভালো লাগা থেকেই করছি।

রেহানা থেকে সুলতানা, এই জার্নিটা নিয়ে সন্তুষ্ট কতখানি?

২০১৮-২০২২, মানে প্রায় ৪ বছর! এই সময়ে আমি মনের মতো ৪টি ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করেছি। এই কাজগুলো দিয়ে নিজেকে এক্সপ্লোর করতে পেরেছি। মুসকান জুবেরী, রেহানা মারিয়াম নূর, অক্টোপাস ও সুলতানা-এই চারটি চরিত্রে আমি যতটা ইফোর্ট দিয়ে কাজ করেছি-সেটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। চারটি চরিত্রই একটা অন্যটা থেকে আলাদা ও ইন্টারেস্টিং। প্রতিটি চরিত্রই আমি এ্যাডপ্ট করতে পেরেছি ঠিকঠাক মতো। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই ডিরেক্টরদের, যারা আমাকে নিয়ে চিন্তা করেছেন। অনেকে বলে থাকেন, কেন বাঁধনকে অনেক কাজে দেখা যায় না। এটা নিয়ে আমি বিচলিত নই এখন আর। আমি মনে করি, যেটা করতে চাইছি বা সুযোগ পাচ্ছি-সেটা আমার সততা ও পরিশ্রমের ফল।

বলিউডের নন্দিত অভিনেত্রী টাবু খুফিয়া’তে আপনার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মুখে নিজের চরিত্রের বর্ণনা শুনে কতখানি মুগ্ধ আপনি?

টাবুর মতো একজন অভিনেত্রী আমার ক্যারেক্টারের বর্ণনা দিয়েছেন, এটা তো আমার জন্য অনেক আনন্দের বিষয়। আমি খুবই খুশি এবং ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। আমার চরিত্রের নাম ‘অক্টোপাস’।

এখানে আমার স্ক্রিনটাইম অতো বেশি না হলেও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। এখন থেকে তাহলে কি সিরিজ-সিনেমাই করবেন, নাটকে ফিরবেন না?

আসলে এখনকার সিরিজে গল্প, চরিত্র পাওয়া যায়। সাথে বাজেটও। তাই কাজগুলো ভালো হয়। তবে নাটকের যে বাজেট তাতে আমি যা করতে চাই বা নতুন কিছু এক্সিপেরিমেন্ট করতে চাই-সেটা কি সম্ভব? ওয়েব সিরিজে নতুনত্ব, গল্প নিয়ে বিস্তর ভাবনা, চরিত্র নিয়ে এক্সিপেরিমেন্ট যেভাবে করতে পারি, নাটকের ক্ষেত্রে পারবো না। আর অন্যদিকে আমি সিনেমা নিয়ে হোপফুল না। আমি যে ধরণের কাজ করতে চাই, চরিত্র করতে চাই সেটা নারীপ্রধান হোক বা একটু চ্যালেঞ্জিং কিছু-সেটা হবে না। দেশীয় ফিল্মে নারীকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ হয়েছে কতটি? তেমন করে খুঁজলে খুবই কম পাবেন। সেক্ষেত্রে আমি সিরিজে বেশী স্বাচ্ছ¡ন্দ্যবোধ করি। তবে যখন দেখবো সিরিজে আমাকে দিয়ে হচ্ছে না বা কেউ নিচ্ছে না-তখন ফের নাটকেই ফিরে যেতে পারি।

জীবন এখন কতটা সুন্দর?

খুবই সুন্দর! আমি এখন বর্তমানকেই বেশী ফোকাস করতে চাই। জীবনকে উপভোগ করতে চাই। আগে অতীত নিয়ে খুব বেশী ভাবতাম, পরে থাকতাম। সারাদিন কাদতাম। এখন আর ভাবি না। যতদিন বাঁচি কাজ করে যেতে চাই।

চলচ্চিত্রে সুদিন চলছে। আপনার কি মনে হয় এই ইন্ডাষ্ট্রিতে রেভ্যুলেশন হয়েছে?

প্যান্ডোনোমিকের পর এই ইন্ডাষ্ট্রিতে বিশাল একটি চেঞ্জ দেখা গেছে। মানে ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির পূর্ণজন্ম হয়েছে। এখন অনেক ইয়াং জেনারেশনের মাধ্যমে ভালো ভালো কাজ পাচ্ছি আমরা। আমাদের চিন্তা শক্তির অভাব, অর্থের অভাব থাকলেও ট্যালেন্টের অভাব নাই। সেই জন্য ইয়াং ডিরেক্টরা এখন নতুন স্বাদের গল্প নিয়ে সিরিজ বানাচ্ছে। সিনেমা বানানোর সাহস পাচ্ছে। আমি মনে করি, দিনশেষে কাজটিই করতে হবে। আগেও আমাদের ট্যালেন্টের অভাব ছিল না, এখনো নেই। কাজটি যে সবারই ভালো লাগতেই হবে-সেটা ভাবাটা অবান্তর। এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সবার কাছেই কি মুসকান জুবেরী, রেহানা মারিয়ম নূর পছন্দ হবে? হবে না। আসলে যেটা আমার ভালো লাগবে, আমি ইনজয় করবো-সেটাই তো করা উচিত। আমরা আসলে নতুনকে সাধুবাদ জানাতে ভয় পাই। নতুনদের সুযোগ দরকার বেশী। আর আমার মনে হয়, মেয়েদের এ্যাকটিং জায়গা এই ইন্ডাষ্ট্রিতে কম। রেভ্যুলুশন হবে কিভাবে? আমি নিজে ফাইট করে আমার জায়গা তৈরী করেছি। সবারই কি সেই সুযোগ আছে? নেই তো। এইসব মান্ধাত্বা আমলের চিন্তা থেকে বের হয়ে চলচ্চিত্রে জাগরণ দরকার।

নতুন সিরিজে বা সিনেমার সুখবর দেবেন কি?

কিছু সিরিজ-সিনেমা করার কথা হচ্ছে। তবে এখনো চুড়ান্ত নয়। আপনারা আগেও দেখেছেন, আমি কোন কিছু চুড়ান্ত না হলে কথা বলতে চাই না। সেটা শুধু শুধু সময় নষ্ট। আমি আগামী ১-২ বছর বুঝে শুনে কিছু কাজ করতে চাই। এক্সিপেরিমেন্ট কিছু কাজ করতে চাই। এমনও হতে পারে রেগুলার কিছু সিরিজ করছি। আমি তো মানুষ। চড়াই উতরাই থাকবেই। কাজের ক্ষেত্রে ভুল হতেই পারে। তাই এই জীবনে কোন হাই-এক্সপেকটেশন করতে চাই না।

তারকাদের লাগামহীন জীবন, অশোভনীয় আচরণ, প্রেম-বিয়ে-বিচ্ছেদ-সন্তান নিয়ে আপনার কি অভিমত?

আমি এটি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। এটা নিয়ে বলাটা খুবই দরকারীও না। এটা যার যার নিজস্ব বিষয়।

আপনি এখনো একজন ‘সিঙ্গেল মাদার’। ভবিষ্যতে সম্পর্ক, বিয়ে করা নিয়ে ভাবছেন?

আপাতত না। আমি আর মেয়ের মাঝখানে নতুন কাউকে নিয়ে চিন্তার করার এখনো সুযোগ হয়নি। তবে ভবিষ্যতে কি হবে-সেটা বলতে পারবো না। মানুষের জীবনে ইমোশনাল সার্পোটের জন্য পার্টনার দরকার হতেই পারে। সেটা অন্য বিষয়। আগে গৎবাধা মানুষ ছিলাম। এখন আমি আমার মেয়ে ও আমাকেই নিয়ে ভাবি। এখন চিন্তারও পরিবর্তন হয়েছে আমার। আমি ক্যাপাবেল আমার মেয়ে ও আমাকে চালাতে। আর রাষ্ট্র আমাকে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য।