সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

সত্যজিৎ রায়। উনিশ শতকের অন্যতম সেরা বাংগালী। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯২১ সালের ২ মে, কোলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও সত্যজিৎ রায়ের আদি নিবাস বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার, কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া গ্রামে। তাঁর দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী এবং বাবা সুকুমার রায় দুজনেরই জন্ম এই গ্রামে। দুজনেই বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং সংস্কৃতি অংগনে খ্যাতিমান। কদিন আগেই, ২৩ এপ্রিল ছিলো সত্যজিৎ রায়ের প্রয়ান দিবস। তাঁর সম্পর্কে আমার মত মানুষের কিছু বলতে যাওয়াটাই অপরাধ তুল্য। উপেন্দ্রকিশোরের সময়েই সত্যজিতের পরিবারের ইতিহাস এক নতুন দিকে মোড় নেয়। লেখক, চিত্রকর, দার্শনিক, প্রকাশক ও শখের জ্যোতির্বিদ উপেন্দ্রকিশোরের মূল পরিচিতি, তিনি ১৯ শতকের বাংলার এক ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলন, ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম নেতা। তিনিই বের করতেন ছোটোদের পত্রিকা সন্দেশ, যা ধারাবাহিক ভাবে সম্পাদনা করেছেন তাঁর ছেলে সুকুমার রায় এবং নাতি সত্যজিৎ রায়। গুপী গায়েন বাঘা বায়েন তাঁরই লেখা। উপেন্দ্রকিশোরের ছেলে সুকুমার রায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যে শিশু সাহিত্যের সেরা লেখকদের একজন। দক্ষ চিত্রকর ও সমালোচক হিসেবেও সুকুমারের খ্যাতি ছিল। সুকুমার রায় এবং সুপ্রভা দেবীর সন্তান সত্যজিৎ রায় মাত্র তিন বছর বয়সেই বাবাকে হারান। তরুন বয়সেই তিনি জড়িয়ে পড়েন চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে। সেখান থেকেই তাঁর চলচ্চিত্র পরিচালনার সূত্রপাত। চলচ্চিত্র পরিচালক, কাহিনী চিত্রনাট্য সংলাপ রচয়িতা, গীতিকার, সুরকার, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, শিল্প নির্দেশক, অংকন শিল্পী, লেখক, প্রকাশক, গ্রাফিকস ডিজাইনার, চলচ্চিত্র সমালোচক আরও কত কী! যা এই উপমহাদেশের মানুষই শুধু নয়, তামাম বিশ্ব চলচ্চিত্র জানে। পুনা ফিল্ম ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক সতীশ বাহাদুর ক্লাশে বলেছিলেন, চলচ্চিত্র বুঝতে হলে সত্যজিৎ রায়কে জানতে হবে। অস্কারের “লাইফ টাইম এচিভমেন্ট”, ফরাসি সরকারের বিশেষ সম্মাননা, দাদা সাহেব ফালকে পদক, ভারত রত্ন পদক, পদ্ম ভুষন পদক ছাড়াও ভারতের ৩২ টি জাতীয় পুরস্কার সহ অনেক অনেক ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্মাননা, পদক ও পুরস্কারে ভূষিত সত্যজিৎ রায়, বাংগালী জাতিকেই নিয়ে গেছেন গৌরবের নতুন মাত্রায়। আজ শুধু বলবো, হে মহান, আপনার জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
মুজতবা সউদ