সুচিত্রা সেন এর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা

কিংবদন্তি সুচিত্রা সেন এর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সুচিত্রা সেন। এরপর এই উপমহাদেশে আর কোন বাংলাদেশের পাবনায় জন্ম নেয়া এই কিংবদন্তি সম্পর্কে কিছু বলার প্রয়োজন পড়ে না। উনার শশুর বাড়ীও ঢাকায়। কিন্তু এ দেশের প্রতি আজন্মকাল ভালোবাসা লালন করে গেলেও, ঢাকার কোন চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হয়নি তাঁর। বিয়ের আগে তাঁর নাম ছিলো রমা দাশগুপ্ত। পাবনা গার্লস স্কুলে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছেন। এ সময় দেশ ভাগ হওয়ার পরিস্থিতিতে তাঁর বাবা, শিক্ষক করুনাময় দাশগুপ্ত সপরিবারে চলে যান কোলকাতা। সেখানেই ঢাকা থেকে আসা ঢাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে হয়ে যায় রমার। স্বামী আদিনাথ সেনের ছেলে, বিলেতে শিক্ষা নিয়ে ফেরা দিবানাথ সেন। নামটা চেনা চেনা মনে হতেই পারে। কারণ, রমার দাদা শশুর দীননাথ সেনের নামে এখনও ঢাকার পুরানো এলাকায় একটি রাস্তার নাম রয়েছে। দিবানাথ সেনের মামা প্রখ্যাত পরিচালক বিমল রায়। ভাগ্নে বউ রমা সেনের ভেতর তিনি যেন দেখেছিলেন বাংলার এক নায়িকাকে। বিলেতে উচ্চশিক্ষিত স্বামী দিবানাথ মামার কথায় আপত্তি করেন নি। তাঁর অনুমতি নিয়েই, মামা শশুরের ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। পর্দা নাম সুচিত্রা রাখা হলেও স্বামীর পদবী বদলাননি সুচিত্রা সেন। শুরুটা হয়েছিলো ১৯৫২ সালে। তবে প্রথম ছবি ‘শেষ কোথায়’ মুক্তি পায়নি। পরের বছর উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সুপার হিট। ১৯৫৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছয়টি ছবিই ব্যাবসা সফল। ১৯৫৫ সালে বিমল রায়ের হিন্দি ‘দেবদাস’ ছবিতে দীলিপ কুমারের বিপরীতে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করে, সর্বভারতীয় দর্শকদের প্রিয় নায়িকায় পরিনত হন সুচিত্রা সেন। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার। এরপরও মুম্বাইয়ের “আঁধি” ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি। তবে, তিনি কখনো হিন্দি ছবির বিষয়ে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেন নি। শাপমোচন, সাগরিকা, পথে হলো দেরি, দীপ জ্বেলে যাই, সবার উপরে, সাত পাকে বাঁধা, দত্তা, গৃহদাহ, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত এমন সব দর্শকপ্রিয় প্রায় ৬০ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৬৩ সালে মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে অভিনয় জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন সুচিত্রা সেন। এটিই উপমহাদেশীয় কোন অভিনেত্রীর বড়ো মাপের পুরস্কার অর্জন। পদ্মশ্রী পদক, বঙ্গবিভূষণ, দাদা ভাই ফালকে পদক সহ পেয়েছেন অনেক অনেক পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। তবে, অন্তরাল বাসি হবার পর জন সম্মুখে যেতে হবে বলে, ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পদক আনতে যাননি সুচিত্রা সেন। সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের প্রিয় এই নায়িকা ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল, পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা এই কিংবদন্তি নায়িকার প্রতি।
মুজতবা সউদ