মাহে রমজানের গুরুত্ব ও রোজার ফজিলত

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে রমজান মাসের রোজা। সূরা বাকার ১৮৫ নং আয়াতের দ্বারা দ্বিতীয় হিজরীতে রোজা উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছে।
রমজানের রোজা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আবার এর প্রতিপালনের উপর অনেক বড় পুরস্কারেরও ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আল্লাহ্ তাআলা বলেন: রোজা আমারই জন্য। আমি নিজে এর প্রতিদান দেব। আমার বান্দা আমার জন্য পানাহার ছেড়ে দেয়, কামনা-বাসনা ছেড়ে দেয়। রোজাদারের জন্য দু’টি খুশি। একটি খুশি ইফতারের সময়। আরেকটি খুশি আমার সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময়। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধের চেয়েও উত্তম।
রোজা জাহান্নাম থেকে বাঁচার একটি ঢাল। যেমন তোমাদের কাছে আছে হত্যা থেকে বাঁচার ঢাল।
আবু উমামা বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। তিনি বললেন: ‘তোমার জন্য অপরিহার্য হলো রোজা রাখা। কেননা এর কোনো তুলনা নেই’।
যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের মাঝে একটি পরিখা তৈরি করে দেন। যা আকাশ ও জমিনের দূরত্বের মতো। (তিরমিজি : ১৬২৪)
জান্নাতে একটি ফটক আছে। তার নাম রাইয়্যান। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণ সেই ফটক দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সেই ফটক দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে: রোজাদারগণ কোথায়? তখন তারা উঠবে। তারা ছাড়া অন্য কেউ যাবে না। যখন তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন রাইয়্যান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। সুতরাং আর কেউ এ ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি : ১৮৯৬)
আমার উম্মতকে রমজান মাসে পাঁচটি জিনিস দান করা হয়েছে, যা আমার আগে কোনো নবীকেই দান করা হয়নি। প্রথম, রমজান মাসের প্রথম রাত যখন আসে তখন আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। আর যার উপর তাঁর দৃষ্টি পড়ে তাকে তিনি কখনো শাস্তি দেবেন না। দ্বিতীয়, তাদের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুবাসের চেয়েও উত্তম। তৃতীয়, ফেরেশতারা তাদের জন্য প্রত্যেক দিন ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। চতুর্থ, আল্লাহ্ তাআলা জান্নাতকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি আমার বান্দাদের জন্য তৈরি হও এবং সজ্জিত হও। অতি শীঘ্রই তারা দুনিয়ার ক্লান্তি থেকে আমার ঘরে ও আমার সম্মানে স্বস্তি চাইবে। পঞ্চম, যখন শেষ রাত আসে তখন তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়। একজন জিজ্ঞাসা করল, এটা কি কদরের রাতে? তিনি বললেন, না। তুমি কি মজদুরদের দেখনি যে, তারা যখন কাজ থেকে অবসর পায়, তখন তাদের মজুরি পুরোপুরি প্রদান করা হয়। (কানযুল উম্মাল)
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম থেকে এতটা দূরে সরাবেন, একটা কাক শৈশব থেকে বৃদ্ধ হয়ে মরা পর্যন্ত উড়ে যতটা দূরে সরে যায়। (শুআবুল ঈমান : ৩৩১৮)
হাদিসে বর্ণিত রোজার ফজিলত ও ছওয়াবগুলো লাভের জন্য রোজার সব আদব ও নিয়ম রক্ষায় আন্তরিক থাকা জরুরি।
আজাদ আবুল কাশেম