পদ্মশ্রী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

পদ্মশ্রী সম্মান প্রত্যাখ্যান করলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কিংবদন্তি গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়
ভারতের কিংবদন্তি বাঙালি কণ্ঠসংগীত শিল্পী, সংগীত পরিচালক হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ১৯৮৭ সালে পদ্মশ্রী সম্মাননা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অত্যন্ত অপমানিত এবং অসম্মানিত বোধ করেই নাকি এই সম্মাননা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এবার আরেক কিংবদন্তি বাঙালি গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ও অভিমানে পদ্মশ্রী সম্মাননা ফিরিয়ে দিলেন।
২৫ জানুয়ারি বিকেলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা মুখোপ্যাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। নব্বই বছর বয়সী এই শিল্পীকে বলা হয়, আমরা আগামীকাল আপনাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করতে চাই। আপনি কি নেবেন? তাহলে অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে আপনার নামও ঘোষণা করা হবে?
এমন ভাবে পদ্মশ্রী সম্মাননা দেওয়া কথা ভাবতেই পারেননি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তার মনে হয়েছে- তার সমসাময়িরা যেখানে যোগ্যতার কারণেই কেউ ভারতরত্ন, কেউ পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ পেয়েছেন সেখানে তিনি কিনা পদ্মশ্রী সম্মাননা? যা মুম্বাইয়ের সঙ্গীত জগতের অনেকেই ভূষিত। তার আরও খারাপ লাগে শেষ পর্যায়ে এসে সস্মাননার কথা জানানো।
এতে অসম্মানিত বোধ করে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় পদ্মশ্রী সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করে দেন। তিনি বলেন, আমার এই স্ম্মাননা চাই না। আর একটা কথা জেনে রাখুন- আমার শ্রোতারাই আমার পুরস্কার।
প্রবীণ এই শিল্পী ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলার মানুষ আশা করি বুঝবে, কোন যন্ত্রণা থেকে পদ্মশ্রী খেতাব ফিরিয়ে দিলাম। সত্যি আমার এসব খেতাবের দরকার নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের এতগুলো বছরের বুক ভরা ভালোবাসাই আমার পুরস্কার।
১৯৭১ সালে ‘জয় জয়ন্তী’ এবং ‘নিশিপদ্ম’ সিনেমায় গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার তাকে ২০১১ সালে ‘বঙ্গবিভূষণ’ উপাধিতে সম্মানিত করে।
অঞ্জন দাস