আনোয়ারা : জন্মদিনের শুভেচ্ছা

আনোয়ারা। বাংলা ভাষাভাষী, বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাঁর পরিচয় দেবার কোন প্রয়োজন পড়ে না। যে ক’জন নারী অভিনয় শিল্পীর অবদানে এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্প সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের অন্যতম একজন আনোয়ারা। ছোট বেলা থেকেই নাচ শিখতেন তিনি ওস্তাদ দেব কুমারের কাছে। ১৯৬১ সালে, ১৪ বছর বয়স হতে না হতেই চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে একজন নৃত্য শিল্পী হিসেবে। ফজলুল হক পরিচালিত সেই ছবিটির নাম প্রথমে ছিলো ‘আযান’, পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘উত্তরণ’ রাখা হয়। তবে ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। আনোয়ারা অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি, আব্দুল জাব্বার খান পরিচালিত ‘নাচঘর’। ১৯৬৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিতেও তিনি নৃত্য শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। এ সময় তিনি বেশ কটি বাংলা এবং উর্দু ছবিতে কাজ করেন। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংগম’ ছবির একটি সহ চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় সবার দৃষ্টি কাড়ে। তামাম চলচ্চিত্র শিল্প এবং সে সময়ের দর্শকরাও বুঝে জান, একজন শক্তিশালী শিল্পীর আগমন ঘটেছে এই শিল্পে। ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জানাজানি’ ছবিটি ছিলো আনোয়ারার অভিনয় জীবনের এক নতুন মোড়। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বালা’ ছবিতে নায়িকা হয়ে আসেন তিনি। তবে, নায়িকা কিংবা পার্শ্ব চরিত্র, সেই বিচার না করে অভিনয় প্রধান চরিত্র বেশি পছন্দ করতেন আনোয়ারা। খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা” ছবির আলেয়া চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয়, তাঁকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা, পাশাপাশি প্রশংসা। ঢাকার পর ছবিটি তদানিন্তন পশ্চিম পাকিস্তানে উর্দু ভাষায় নির্মিত হয়। গোটা পাকিস্তানে তিনি হয়ে ওঠেন প্রশংসিত এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী। দেশ স্বাধীন হবার পর আনোয়ারা ব্যতিরেকে অনেক প্রযোজক পরিচালক ছবি বানানোর কথা ভাবতেই পারতেন না। এক বেসরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে আনোয়ারা অভিনীত ছবির সংখ্যা ছয়শতাধিক। মোট আটবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। এছাড়াও বাচসাস সহ অনেক অনেক পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ভাবে মৃদুভাষী এবং সদালাপী আনোয়ারা ১৯৪৮ সালের ১৭ জানুয়ারি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার এই অভিনয় শিল্পীকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন।
মুজতবা সউদ