কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেনের প্রতি শ্রদ্ধা

সুচিত্রা সেন। তাঁর বাবা পাবনা শহরের একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সেখানেই ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল জন্ম নেন তিনি। মা গৃহিণী। কান্তকবি রজনীকান্ত সেনের নাতনি সুচিত্রা সেন। পাবনা শহরেই করেছেন পড়াশোনা। বিয়ে হয়েছিলো ঢাকায়। বনেদী এই পরিবারটি পরবর্তীতে কোলকাতায় চলে যান। সেখানেই ১৯৫২ সালে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে যান সুচিত্রা সেন। প্রথম ছবি ‘শেষ কোথায়’ মুক্তি পায়নি। ১৯৫৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় সুচিত্রা সেনের প্রথম ছবি ‘সাত নম্বর কয়েদী’, ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় ‘সাড়ে ৭৪’, ১০ এপ্রিল ‘কাজরী’, ১১ ডিসেম্বর ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সুচিত্রা সেনকে। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠলেন বাংলা ছবির প্রেমের প্রতীক। ভারতের পশ্চিম বংগ এবং বাংলাদেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া এক মহা নায়িক। ১৯৬৩ সালে সাত পাকে বাঁধা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন সুচিত্রা সেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। বয়স এসে ভর করার পর, নিজের অনিন্দ সুন্দর মুখে বয়সের ছাপ দেখতে দেন নি তিনি। স্বপ্নের সুচিত্রা সেন সপ্নই রয়ে গেছেন। অগনিত মানুষের হৃদয়ে তিনি রয়ে গেছেন সপ্নে দেখা রাজকন্যা। বাংলা চলচ্চিত্রের রাজকন্যা। এমন কী, তাঁর জরাগ্রস্থ মুখ দেখতে দেবেন না বলে রাষ্ট্রীয় ‘দাদাভাই ফালকে’ পদক নিতে, দিল্লি যান নি তিনি। পেয়েছেন ভারতের ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার। “বঙ্গভূষণ” পুরস্কার। অন্তিম মুহূর্তে মুহূর্তে পশ্চিম বাংলার মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখেছিলেন তাঁকে। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন সুচিত্রা সেন। শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা এই কিংবদন্তি নায়িকার প্রতি।
মুজতবা সউদ