লক্ষ্মীকু্ঞ্জে গিয়ে দোয়া নিয়ে পরিচালনা শুরু করলেন অরুণা বিশ্বাস

অসম্ভব ভালো লাগলো অরুণা বিশ্বাস’র ঘটনাটি জেনে। ভাই মিঠু বিশ্বাসকে নিয়ে তিনি ছুটে গেছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক এঁর বাড়িতে, দোয়া নিতে। এই প্রথম ছবি পরিচালনা করছেন অরুণা বিশ্বাস। তিনি বললেন, ‘কাকাবাবু নায়করাজ নেই, কিন্তু আমি জানি উনার আশির্বাদ সবসময় আমার সঙ্গে আছে। আমি ছবি পরিচালনা করছি জানলে উনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন’ খুশি হয়েছেন লক্ষী ‘আন্টি’ও। অরুণা ছবি পরিচালনা শুরু করবে এবং এ জন্য তাঁর দোয়া নিতে এসেছে জেনে, উনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অরুণাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। নায়করাজ রাজ্জাক এবং লক্ষী দম্পতির কন্যা শম্পা যখন দুরারোগ্য ব্যধিতে শয্যাশায়ী, তখন জরুরী ভিত্তিতে তাকে রক্ত দেবার প্রয়োজন হয়েছিলো। দুইবার শম্পার জন্য রক্ত দিয়েছিলেন অরুণা। দুজনের রক্তের গ্রুপই এক। শম্পাকে বাঁচানো যায়নি। কিন্তু, নায়করাজ দম্পতি বরাবরই অরুণা বিশ্বাসকে মেয়ের মতো দেখেছেন। তাছাড়া, অরুণার বাবা, ‘যাত্রা সম্রাট’ হিসেবে খ্যাত অমলেন্দু বিশ্বাস’র সঙ্গে নায়করাজ’র ছিলো হৃদিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। নায়করাজ রাজ্জাকই অরুণা বিশ্বাসকে চলচ্চিত্রে সংশ্লিষ্ট করেন। নায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত করেন তাঁর পরিচালনার ”চাঁপা ডাঙার বউ” ছবিতে। অরুণা বলছিলেন, ‘সেই অর্থে তিনি শুধু আমার কাকাবাবুই নন, চলচ্চিত্রে আমার গুরু। তাই, আমি যখন প্রথম ছবি পরিচালনা করতে যাচ্ছি, তখন কাকাবাবু আর কাকিমার দোয়া ছাড়া রওনা হই কী করে। কাকাবাবু নেই কিন্তু, কাকিমা তো রয়েছেন! তিনি আমাকে প্রান ভরে দোয়া করেছেন।’ অরুণা আরো জানালেন, ছবি পরিচালনা করতে গিয়ে মনে পড়ছে সবার কথাই। বলছিলেন, ‘চিত্রগ্রাহক মহফুজ ভাই কিংবা মেইক আপ ম্যান দীপক কুমার সুর থেকে যে প্রোডাকশন কর্মীটি আমাকে প্রথম চা দিয়েছিল, মনে হচ্ছে সবার কাছে গিয়ে, দোয়া নিয়ে আমার রওনা হওয়া উচিৎ ছিলো। কিন্তু, উনাদের অনেকেই এখন বেঁচে নেই, অন্যদের ঠিকানাও জানা নেই। কিন্তু রাজ্জাক কাকু গুরু। আমি মনে করি উনার বড়ি গিয়ে, কাকিমার দোয়া নিয়ে রওনা হচ্ছি জেনে, উনারা যেখানেই থাকুন খুশি হবেন এবং উনাদের আশির্বাদও আমার সঙ্গে থাকবে।’ লক্ষী কুঞ্জে গিয়ে, দোয়া নিয়ে এসেই মানিকগঞ্জের জাবড়া গ্রামে রওনা হয়ে গেছেন অরুণা বিশ্বাস। সেখানে আজ থেকে উনার শুটিং শুরু হবার কথা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুদান নিয়ে, যাত্রা ভিষণ এর প্রযোজনায় ছবিটি পরিচালনা করেছেন অরুণা বিশ্বাস। ছবির নাম ‘অসম্ভব’।
মুজতবা সউদ