বর্ণিল আলোর ঝলকানিতে ট্রাব এ্যাওয়ার্ড প্রদান

ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে বর্ণিল আলোর ঝলকানি। মঞ্চের আলোর ঝর্ণাধারা উপচে পড়ছিল মিলনায়তনে উপস্থিত তারকাদের মাঝে।
তারপর এক এক করে সম্মাননা পেলেন অনেক গুণীজন। তাদের হাসি-আনন্দে সে পরিবেশ হলো আরও মুখরিত। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এমন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) এওয়ার্ডের আসরে। ২৭তম এ আসরে ১৩টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্নগুণীজনকে সম্মানিত করা হয়।
এসময় বিভিন্নক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পাঁচজনকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা। এতে সাংবাদিকতায় আজীবন সম্মাননা পান বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, প্রকৃতিতে মুকিত মজুমদার, সমাজ উন্নয়নে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও শিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হামিদা খানম।
বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয় এটিএম বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে।
অনুষ্ঠানে চিন্ময় মুৎসুদ্দীকে দেওয়া হয় আহমেদ জামান চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ও সৈয়দ শামসুল হক স্মৃতি পুরস্কার পান নাট্যজন আতাউর রহমান।
সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, নৃত্য, সংগীত ও মঞ্চসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনের বিভিন্নজনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলো:
চলচ্চিত্র বিভাগ
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র : বিশ্ব সুন্দরী, প্রযোজক, অঞ্চন চৌধুরী, চেয়ারম্যান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী : পরীমনি, চলচ্চিত্র-বিশ্ব সুন্দরী, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা : সিয়াম, চলচ্চিত্র-বিশ্ব সুন্দরী, শ্রেষ্ঠ পরিচালক : চয়নিকা চৌধুরী, চলচ্চিত্র-বিশ্ব সুন্দরী, শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক (পুরুষ) : ইমরান, চলচ্চিত্র-বিশ্ব সুন্দরী, শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক (নারী) : দিলশাদ নাহার কণা, চলচ্চিত্র-বিশ্বসুন্দরী ।
বিশেষ সম্মাননা চলচ্চিত্র : মো. সেলিম খান, পরিচালক, টুঙ্গীপাড়ার মিঞা ভাই, শামীম আহমেদ রনি, কাহিনী ও চিত্রনাট্য, টুঙ্গীপাড়ার মিঞা ভাই, ইফতেখার চৌধুরী, চলচ্চিত্র পরিচালক, শাহীন সুমন, মহাসচিব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও বিশেষ সম্মাননা : তাসিক আহমেদ, টক শো, কথায় কথায়।
টেলিভিশন বিভাগ
শ্রেষ্ঠ টেলিফিল্ম : এখানে তো কোন ভুল ছিল না, প্রযোজক সাজু মুনতাসির, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (টেলিফিল্ম) : জোভান, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (টেলিফিল্ম) : তাসনিয়া ফারিণ, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (একক নাটক) : মেহজাবীন চৌধুরী, নাটক-ইরিনা, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (একক নাটক) : তৌসিফ। শ্রেষ্ঠ নাট্য পরিচালক (একক) : সালাহ উদ্দিন লাভলু, শ্রেষ্ঠ নাটক (একক) : উড়াল পক্সক্ষী, প্রযোজক, বাশেদ সিমন, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (ধারাবাহিক) : জাহিদ হাসান, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (ধারাবাহিক) : উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, শ্রেষ্ঠ পরিচালক (ধারাবাহিক) : সাজ্জাদ হোসেন দোদুল শ্রেষ্ঠ ধারাবাহিক : চোরা কাটা, প্রযোজক, মীর সাব্বির, পপুলার ধারাবাহিক : ভেজ্যাইল্লা গ্রাম, প্রযোজক সোহেল তালুকদার, প্রমিজিং অভিনেত্রী (নাটক) : দ্বীপান্বীতা রায়, প্রমিজিং অভিনেত্রী (নাটক) : রেহনুমা মোস্তফা।
শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী (চলচ্চিত্র) : অধরা খান, শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী (চলচ্চিত্র) : রাজ রিপা, শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা (চলচ্চিত্র) : শান্ত খান, টুঙ্গীপাড়ার মিঞা ভাই, শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী (চলচ্চিত্র) : দীঘি, টুঙ্গীপাড়ার মিঞা ভাই, শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা (চলচ্চিত্র) : ইফতি আহমেদ, শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেতা (চলচ্চিত্র) : মাসুম বিল্লাল ফারদিন ও বেস্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট : মো. সালাম চৌধুরী।
সংগীত বিভাগ
শ্রেষ্ঠ গায়িকা : আঁখি আলমগীর, শ্রেষ্ঠ গায়ক : আসিফ আকবর, পপুলার গায়ক : সাব্বির আহমেদ, পপুলার গায়িকা : সাবরিনা বশির, শ্রেষ্ঠ গীতিকার : সুদীপ কুমার দ্বীপ, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক : শওকত আলী ইমন, শ্রেষ্ঠ জিংগেল নির্মাতা : রিপন খান, শ্রেষ্ঠ গান : দেবদ্যূত, প্রযোজক, সাবরিনা বশীর, প্রমিজিং গায়িকা : তামান্না প্রমি, প্রমিজিং গায়িকা : প্রেরণা, প্রমিজিং গায়িকা : সামিয়া জাহান, আলাউদ্দিন আলী স্মৃতি পুরস্কার : মিলি আলাউদ্দিন।
নৃত্য বিভাগ
শ্রেষ্ঠ নৃত্য শিল্পী (পুরুষ) : ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, শ্রেষ্ঠ নৃত্য শিল্পী (নারী) : সাবরিনা শফি নিসা
মঞ্চ বিভাগ
শ্রেষ্ঠ মঞ্চ নাটক : দ্রৌপদী পরম্পরা, শ্রেষ্ঠ মঞ্চ অভিনেতা : সেলিম মাহবুব, শ্রেষ্ঠ মঞ্চ অভিনেত্রী : তনিমা হামিদ, শ্রেষ্ঠ নির্দেশক (মঞ্চ) : অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।
এগুলোসহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শতাধিক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান কে সম্মাননা প্রদান করে ট্রাব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ট্রাব অ্যাওয়ার্ড নিয়ে বলেন, গুণীজনদের সম্মান দেখানো না হলে নতুন গুণীজন সৃষ্টি হয় না। আমরা একটি বহুমাত্রিক সমাজে বসবাস করি, যেখানে কৃষ্টি সংস্কৃতিতে আমরা অনেক এগিয়ে। সংস্কৃতিতে আমরা বিশ্বের অনেক দেশের থেকে উন্নত। ভারতবর্ষের একজন বাঙালি হয়ে এদিক থেকে আমরা গর্বিত।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র আর্থিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি তার আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। সেজন্যে আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে যারা সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাদের সম্মানিত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠােনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বিনোদন বিচিত্রার সম্পাদক দেওয়ান হাবিবুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন ট্রাবের সভাপতি সালাম মাহমুদ।
রোমান রায়