দুই বাংলার প্রিয় ঋতুপর্ণাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা। কোলকাতায় বলা হয় “টালিউড কন্যা”। শুধু কোলকাতায় নয় ঢাকায়ও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। অভিনয় করেছেন মুম্বাইয়ের ছবিতেও। বাণিজ্যিক ধারার পাশাপাশি বিকল্পধারার ছবিতে অভিনয় দক্ষতার জন্য তিনি যেমন জনপ্রিয়, তেমনি ঋদ্ধ দর্শকমহলেও প্রশংসিত। ঋতুপর্ণা পড়াশোনা করেছেন মাউন্ট কারমেল স্কুলে। পরে লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। পাশাপাশি অঙ্কন, নৃত্য ও হাতের কাজে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ওড়িশি ও মণিপুরী নৃত্যে পারঙ্গম ঋতুপর্ণা’র ‘ভাবনা আজ ও কাল’ নামে একটি নাচের দল আছে। এই দল রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, শ্যামা, মায়ার খেলা প্রভৃতি নৃত্যনাট্য ও অন্যান্য আধুনিক ভাবনার নৃত্যানুষ্ঠান মঞ্চস্থ করে প্রশংসিত হয়েছে। সমাজসেবামূলক কাজ বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য তিনি নিরলস সহযোগিতা করে চলেছেন। কোলকাতার আনন্দলোক ও ঢাকার একটি পত্রিকায় লেখালিখির করেছেন। ১৯৮৯ সালে বাংলা ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’ দিয়ে ঋতুপর্ণা’র অভিনয় জীবনের শুরু। তার অভিনীত প্রথম ছবি প্রভাত রায়ের ‘শ্বেতপাথরের থালা’। ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি ভারতের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। তিনি নিজেও ‘দহন’ ছবিতে অভিনয় করে ভারতের জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। ঋতুপর্ণা অভিনীত প্রথম বাংলাদেশী ছবি ‘স্বামী কেন আসামী’। সাংবাদিকতা এবং কাহিনী ও সংলাপ লেখার সুবাদে তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছে অনেকবার। একটি ছবি’র শুটিং এ আমরা থাইল্যান্ডেও ছিলাম কদিন। অত্যন্ত অমায়িক এই নায়িকা ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। দুই বাংলার প্রিয় মুখ, ঋতুপর্ণাকে জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
মুজতবা সউদ