আকবর হায়দার কিরন এর ‘জ্যাকসন হাইটস জার্ণাল’ ও ‘সেভেন ট্রেন ও পুরোনো প্রেমের কবিতা’র প্রকাশনা উৎসব

গত ৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুইস সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রকাশনা উৎসবটিতে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক এর সাহিত্য সংস্কৃতি অংগনের বেশ কিছু প্রিয়মূখ সুধীজনেরা।
অনুষ্ঠানে নেহার সিদ্দিকী বলেন ‘এখন আমরা যেভাবে জ্যাকসন হাইটস এর 73 স্ট্রীটের চিত্রটা দেখি, প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের দখলে, ২০/২২ বছর আগেও চেহারাটা এমন ছিলোনা। আমি নিউইয়র্কে আসি ১৯৮৯ সালে, তখন আমি তারুন্যের একেবারে প্রথম ধাপে। সেই সময়ের জ্যাকসন হাইটস ছিলো 74 স্ট্রিটের উপর মাত্র কয়েকটি ইন্ডিয়ান স্টোর, 73 স্ট্রিট ছিলো নিভু নিভু আলোয় অন্ধকারাচ্ছন্ন। আমরা জ্যাকসন হাইটসে গিয়ে খেতাম কিংবা আড্ডা দিতাম তখনকার শাহীন রেষ্টুরেন্টে এখন আমরা যাকে ডেরা রেস্টুরেন্ট নামে জানি।
মাঝে মাঝে দল বেধে পুল খেলতাম এখনকার হাটবাজারের ডান পাশের ছোট্ট বার’টিতে, পেনি’র বার।এই দুটো যায়গা ছাড়া জ্যাকসন হাইটসে তেমন কোনো যায়গাও ছিলোনা আমাদের আড্ডা দেবার। 73 ষ্ট্রিটে তখন কিছুই ছিলোনা, দেশী বাজার করতে যেতে হতো এস্টোরিয়ার 30 অ্যাভিনিউ এর বাংলা বাজার কিম্বা মেঘনা গ্রোসারীতে। পুরো নিউইয়র্ক জুড়ে শুধু এই দুটোই দেশী গ্রোসারী শপ ছিলো তখন। ১৯৯৭/৯৮ সালের পর থেকেই মুলতো বাংলাদেশী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে গড়ে ওঠতে থাকে জ্যাকসন হাইটস এর 73 ষ্ট্রীট জুড়ে।
জ্যাকসন হাইটস জার্ণাল: কিরন ভাই নিউইয়র্কে এলেন ১৯৯৪ সালে, থাকতেন একেবারে জ্যাকসন হাইটসে 73 ষ্ট্রীটের এ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংটির প্রথম ফ্লোরে। একসময় কিরন ভাইয়ের ওখানেই সন্ধ্যার পর মাঝে মাঝে জমে উঠতো আড্ডা।কিরন ভাই প্রতিনিয়ত দেখেছেন জ্যাকসন হাইটস এর প্রসার, বেড়ে ওঠার প্রতিটি মূহুর্ত। সবার সব ধরনের আড্ডারই সাক্ষী হয়ে আছেন কিরন ভাই। তার জ্যাকসন হাইটস জার্ণাল লেখা বইটিতে খুঁজে পাওয়া গেলো তার বিভিন্ন আড্ডার অনেক ঘটনাবলীর নানান গল্পকথা।ভালো লেগেছে প্রতিটি আড্ডার স্মৃতিচারণ মুলক লেখাগুলি। মোট ৫৭টি ঘটনাবলী আছে বইটিতে।লেখাগুলো এর আগে ধারাবাহিক ভাবে সাপ্তাহিক বাঙালী’তে প্রকাশিত হয়েছে, এবারে বই আকারে প্রকাশ করলো অন্বয় প্রকাশনী। নিহার সিদ্দিকীর তোলা ছবি অবলম্বনে প্রচ্ছদ করেছেন রাগীব আহসান।
সেভেন ট্রেন ও কিছু পুরনো প্রেমের কবিতা: কিরন ভাইয়ের কবিতার বই “সেভেন ট্রেন ও কিছু পুরনো প্রেমের কবিতা” বইটিতে কবিতা রয়েছে মোট ৮০টি। বইটি প্রকাশ করেছে অনন্যা। চমৎকার প্রচ্ছদ করেছেন রাগীব আহসান। প্রকাশনা উৎসবে অনেকেই স্মৃতিচারনে বলেছেন, কিরন ভাইয়ের একটি পুরনো ব্যাক্তিগত ক্ষত আছে, যেই ক্ষতটির রক্তক্ষরণেরই বহি:প্রকাশ প্রায় বেশকিছু কবিতা। তার সেই ক্ষতটি এতই গাঢ় যে তিনি আর কখনই নিজেকে বাঁধতে পারেননি স্থায়ী কোনো বাঁধনে। কিরন ভাই প্রচন্ড স্বচ্ছ, অমায়িক, বন্ধুসুলভ একজন চমৎকার মনের মানুষ। তার কিছু কবিতায় রয়েছে নিত্যদিনের নানান ঘটনাবলীর সরল প্রকাশ, যা মিলে মিশে যায় প্রায় সবার জীবনের গল্পের সাথেই, এ যেনো জীবন গল্পের কাব্যিক উচ্চারন।
নেহার সিদ্দিীকী, নিউইয়র্ক