‘জলবায়ু’ সহনশীল বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন : রফিক আজম

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। অধিক জনবহুল ও জনঘনত্বের শহর রাজধানী ঢাকা। ক্রমেই ফুরিয়ে যাচ্ছে এখানকার মিষ্টি পানির উৎস, বাড়ছে জলাবদ্ধতা। অদূর ভবিষ্যতে এ থেকে উত্তরণের কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। তবে হতাশ নন বাংলাদেশের স্থপতি রফিক আজম। পরিবর্তিত বাস্তবতায় সহনশীল নগর গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে ঢাকার দক্ষিণাংশে এমন উদাহরণও তৈরি করেছেন। তার আশা, এই মডেলে সুফল আসবে বিশ্বের অন্য সব শহরেও।
জলবায়ু সহনশীল নগর পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন রফিক আজম। তার উদ্ভাবিত মডেল নিয়ে গত বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। টাইমের আন্তর্জাতিক জলবায়ুবিষয়ক প্রতিনিধি আরিয়ান ব্যাকেরের করা এই প্রতিবেদনে কিছু সাহসী স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন স্থপতি আজম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ অঞ্চলই গঙ্গা বদ্বীপবেষ্টিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে চলায় হুমকির মুখে রয়েছে এই শহর। একই সঙ্গে স্থানীয় ভূপৃষ্ঠ থেকেও হুমকিতে রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষকাল এলেই নিস্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত পানি থাকার পরও ঢাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে। প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষের এই শহরে ভূগর্ভস্থ পানি শুষে নেওয়ায় ওই জায়গার দখল নিতে সমুদ্রের পানি ছুটে আসছে।
অধিকাংশ নগর পরিকল্পনাবিদ ঢাকাকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তোলা নিয়ে হতাশ। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রফিক আজম। এই স্থপতি ঢাকার দক্ষিণাংশের ঐতিহ্যবাহী এলাকার (পুরান ঢাকা) অর্ধেক অংশের মানুষ যেন ভবিষ্যতে অধিক উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে, সেজন্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে কাজ করা একটি দলের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট সম্পর্কে স্থপতি আজম বলেন, ‘চ্যালেঞ্জকে যদি সমস্যা মনে করা হয়, তবে তা দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আপনি যদি সমস্যাকে উদ্ভাবনের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে তা একটি উদযাপনে পরিণত হয়।’
স্থপতি আজম শহরের (ঢাকার) অবহেলিত পার্কগুলো পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে তার কাজ শুরু করেছিলেন। পার্কগুলো তিনি ছোট ছোট সবুজ উদ্যানে পরিণত করেছেন, যেগুলো এখন জল ধারণের এলাকা হিসেবে দ্বিগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন। একেকটি উদ্যানের নিচের গভীর পরিখাগুলোতে উপরিতলের বৃষ্টির পানি জমা হয় এবং সেখানে সঞ্চিত থাকে। যা পরে ফিল্টার করা হয় এবং পানীয় জল হিসেবে একটি মহল্লায় সরবরাহ করা হয়। এসব পানি জমার আধারগুলো পানের অযোগ্য রাস্তার পানি টেনে নেয় এবং বন্যা কমায়। এখন পর্যন্ত তার দল ৩১টি কমিউনিটি পার্ক ও খেলার মাঠ এভাবে রূপান্তর করেছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি আর দুর্ভোগ নয়, স্বস্তির কারণ। বিশ্বের নিম্নাঞ্চলের শহরগুলো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের হুমকিতে রয়েছে। ঢাকার অভিজ্ঞতা যদি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে থাকার একটি সতর্কতামূলক গল্প হয়, তাহলে এই শহরের সমাধান অন্যান্য শহরেও সমানভাবে কাজে লাগানো যাবে।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন