নতুনদের সুযোগ দিতে হবে : চাঁদনী

মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। মূলত নাচের মানুষ তিনি। কিন্তু নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেও নিজের জাত চিনিয়েছেন। ‘লালসালু’ ও ‘জয়যাত্রা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করে অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কোনও আক্ষেপ নেই। যা পেয়েছেন তার পুরোটাই প্রাপ্তি। মাঝে অনেকটা সময় অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে নাচ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। কাজ ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন বিচিত্রার সাথে।
বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
চাঁদনী: বর্তমান ব্যস্ততা নাচ নিয়ে। এখন নিজেই কোরিওগ্রাফি করছি। সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমির বেশকিছু কাজ পেয়েছি। সেগুলো নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ‘অসমাপ্ত চা’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। এটি আসছে ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে।
‘অসমাপ্ত চা’ চরিত্রটি নিয়ে জানতে চাই-
চাঁদনী: চা নিয়ে এর গল্প। আমি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছি। সংসার জীবনের নানা ঘটনা এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। স্বামী চা খেতে পারে না। এ নিয়ে বিভিন্ন রকমের ঘটনা ঘটে। এভাবেই গল্পটি এগিয়ে যাবে। ভিন্ন ধরনের একটি গল্পে কাজ করেছি। আশা করছি, দর্শকের পছন্দ হবে।
অভিনয়ে অনিয়মিত কেন?
চাঁদনী: অভিনয়ে আর ফেরার ইচ্ছে ছিল না। মাঝে অভিনয় থেকে অনেক দূরে ছিলাম। এই গ্যাপ পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমি সবদিক দিয়ে পরিপূর্ণ। দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। যার জন্য অভিনয় কমিয়ে দিয়েছি। এখন আর আমার কিছু চাওয়ার নেই। আমি নাচ খুব পছন্দ করি। তাই নাচ নিয়েই ব্যস্ত আছি। তারপরও বেছে বেছে অল্প কিছু কাজ করছি। ভালো গল্পের কাজ হলে মাঝে মাধ্যে পাওয়া যাবে।
চলচ্চিত্র নিয়ে কী ভাবছেন?
চাঁদনী: ভালো গল্প পেলে চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। পরিচালকরা যদি আমাকে নিয়ে ভাবে, তাহলে আমার কাজ করতে আপত্তি নেই। আমি সিনেমায় কাজের জন্য এখনও প্রস্তুত আছি। গল্প ও পরিচালক ভালো হলে কাজ করব।
বর্তমান নাটক-সিনেমা কেমন হচ্ছে?
চাঁদনী: আমি নাটক খুব কম দেখি। তবে চলচ্চিত্র দেখা হয়। এখন আগের চেয়ে অনেক নাটক নির্মিত হচ্ছে। ওটিটি কেন্দ্রিক কাজ বেড়েছে। কেউ বসে নেই। সবাই কাজ করছে। এটি ভালো লাগে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
চাঁদনী: চরিত্রের ওপর সবকিছু বহন করে। ভারি চরিত্রটি যদি কেউ বহন করতে পারে, তাহলে এটি কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার। আর যদি সবকিছু অগোছালো থাকে, তাহলে না করাই ভালো। তবে, যেটি আমরা দেখাতে পারব এবং আমাদের সমাজের সাথে যায়, তাই দেখানো উচিত। যেটা সমাজ কিংবা সংস্কৃতির সাথে যায় না, তা নির্মাণ না করাই ভালো। সবাইকে সামাজিকতা বজায় রেখেই কাজ করতে হবে।
ছোটবেলার স্বপ্ন কি ছিল?
চাঁদনী: শৈশবে স্বপ্ন দেখতাম পশু-পাখির ডাক্তার হব। এটি যখন হতে পারিনি, তখন সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছে হয়। সেটিও যখন হয়নি, তখন মিডিয়ায় আসা। মায়ের ইচ্ছেতেই শোবিজে আসা। মা চেয়েছিলেন আমি কাজ করি। তার সব চাওয়া আমার পূরণ করতে হয়েছে। আব্বু বলেছিলেন, বিটিভির একটি নাটকে ৬ মাসের একটি বাচ্চা দরকার, তখন আব্বু আমাকে দেন। এটিই আমার প্রথম কাজ। এরপরের গল্প সবারই জানা।
যারা নৃত্যশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
চাঁদনী: অনেক প্র্যাকটিস করতে হবে। একাডেমি শিক্ষাটা খুবই জরুরি। একদম কাজে লেগে থাকতে হবে। নাচ করলে করার মতো করতে হবে। শিখলে কাজের অভাব হবে না। আমি নাচের মানুষ। নাচ এখনও ভালোবাসি, চর্চাও করি। নাচকে ভালোবাসতে হবে।
নতুনদের অভিনয়ের জন্য কি পরামর্শ দেবেন?
চাঁদনী: যারা অভিনয়ে আসতে চান, তাদের মঞ্চশিক্ষার বিকল্প নেই। বাংলা উচ্চারণ ভালো করে শিখতে হবে। আর আমরা নাটক-সিনেমার মাধ্যমে যেটা জানাতে চাই- সেটি পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। এখন অনেক নাটকেই দেখি, গল্পের কোনো মিল থাকে না। গল্পটি সঠিকভাবে পর্দায় উপস্থাপন করতে হবে। গল্পেও বাস্তবতার অভাব আছে। সময়ের পরিবর্তনে সবাই একদিকে দৌঁড়াচ্ছেন। কারো ভিন্নতা আনার চেষ্টা নেই।
ঘুরেফিরে একই গল্প। সবাই প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ। প্রেমের গল্প থেকে আমরা বের হতে পারছি না। প্রতিটি গল্পে একটি বার্তা দেওয়া উচিত। আমার এক নাটকের চরিত্র কখনোই অন্য নাটকের সাথে মিলেনি। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি, বেছে বেছে কাজ করার। আমাদের নাটকে উচ্চারণের বড় ঘাটতি রয়েছে। উচ্চারণে আরও নজর দেওয়া দরকার। আমরা যে অঞ্চলের ভাষা নাটকে ব্যবহার করি না কেন, তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। ভাষাকে ব্যঙ্গ করা যাবে না।
আমাদের দেশে অনেক ভালো অভিনেত্রী রয়েছে। জয়া আহসান, বাঁধন অনেক দারুণ কাজ করছেন। এগুলো খুব ভালো লাগে। বর্তমানে নিশো-মেহজাবীন খুব ভালো কাজ করছেন। মেহজাবীন এখন অনেক সুন্দর অভিনয় করছেন। নিজেকে অনেক পরিবর্তন করে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যা করতে চাই, তা ভেতর থেকেই করতে হবে। অভিনয়কে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে বিদেশী চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে-
চাঁদনী: এটিই খুবই ভালো উদ্যাগ। বিদেশে তো আমাদের চ্যানেল দেখানো হয় না। আমরা কেন তাদেরটা দেখাবো? আমি বিষয়টি পজিটিভভাবেই দেখছি।
বর্তমানে অনেকেই ফেসবুক ফলোয়ার কিংবা টিকটক থেকে অভিনয়ে আসছেন। বিষয়টি কিভাবে দেখেন?
চাঁদনী: এটি সময়ের দাবি। কয়েক দিন বাদে এটি চলে যাবে। তারা স্থায়ী হতে পারবে না। যারা অভিনয় মনে প্রাণে করতে চায়, তারা কিন্তু অনেক পরিশ্রম করেন। তারই দিন শেষে থেকে যান। তবে, নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। আমরাও এক সময় নতুন ছিলাম। সুযোগ দিয়ে শিল্পী তৈরি করতে হবে। নতুনদের সুযোগ দিয়ে শিল্পী তৈরির প্রয়াস ঘটাতে হবে।
রোমান রায়