মুস্তাফা মানোয়ার’র জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা

মুস্তাফা মানোয়ার। নিভৃতচারী সৃজনশীল একজন মানুষ। শিল্পের কোন শাখায় উনার বিচরণ এবং অবদান নাই, সেটা বলা দুরহ। টেলিভিশনে তাঁর ‘রক্ত করবী’ দেখার সময় যেমন চোখ আঁটকে যায়, এটা নাটক না সিনেমা সেটার বিবেচনা করা হয়ে ওঠে কঠিন, তেমনি সাফ গেইমস এ তাঁর তৈরি “মিশুক” এর বিচরণে চোখ অন্যদিকে ফেরানো দায় হয়ে ওঠে। মুস্তফা মানোয়ার এর চিত্রকর্ম, তাঁর পাপেট শো ছোটো বড়ো সকলের কাছেই আকর্ষণীয়। ‘সপ্তবর্ণা’র পর, আমি যখন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ‘চতুরঙ্গ’ অনুষ্ঠানের সহকারী, তখন তিনি নিমকোতে। অনুষ্ঠানে তাঁর চিত্রকর্ম আঁকা অথবা গান গাওয়া ছিল নিয়মিত। আদর করে বসাতেন। বলতেন, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে নানান কথা। বাংলা অথবা হিন্দিতে অনুদিত রবীন্দ্র সংগীত গাইতেন। সেখানেই রেকর্ড হতো। গান গাইবার ফাঁকে ফাঁকে বুঝিয়ে দিতেন কথার অন্তর্নিহিত অর্থ। কখন যে উনি আমার শিক্ষক হয়ে গেছেন নিজেও জানিনা। কেন্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লাল সূর্য সহ নানান সৃজনশীল কাজে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কাজের ছোঁয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছেন ‘একুশে পদক’। এ ছাড়াও নিখিল ভারত চারু ও কারুকলা প্রদর্শনীতে গ্রাফিক্স শাখায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চারুকলা প্রদর্শনীতে তেলচিত্র ও জলরঙ শাখায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার, টিভি নাটকের জন্য টেনাশিনাস পদক, চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, শিশু শিল্পকলা কেন্দ্র কিডস কালচারাল ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কর্তৃক কিডস সম্মাননা পদক, চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশুকেন্দ্র থেকে বিশেষ সম্মাননা সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। মুস্তাফা মানোয়ার স্যার ১৯৩৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। গভীর শ্রদ্ধা এবং শুভেচ্ছা এই আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন গুণী মানুষটির প্রতি।
মুজতবা সউদ