শবনমের জন্মদিনের শুভেচ্ছা

শবনম। এক নামেই চেনেন সবাই। তবে, আমার চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন শুরুর কিছু দিন পরেই তাঁকে কেন্দ্র করে ঘটেছিলো এক হুলুস্থুল কারবার। চিত্রালী’র প্রচ্ছদে ছাপানো হয়েছিলো উনার বড়ো এক রঙীন ছবি। প্রচ্ছদেই ছিলো নায়ক রাজ রাজ্জাকের একটি সংবাদ, সংগে নিচে তাঁরও একটি ছোট রঙীন ছবি। আহমদ জামান চৌধুরী এবং নায়ক রাজ পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। “নায়ক রাজ” উপাধিটা আহমদ জামান চৌধুরী (আজাচৌ)’র দেয়া। ঢাকা ক্লাবে সন্ধ্যার পর একত্রিত হয়েছিলেন দুজন। নায়ক রাজ রাজ্জাকের গোস্বা, পাকিস্তান ফেরত শবনমের ছবি প্রচ্ছদে এত বড়, আমার ছবি ছোট তাও আবার নিচের দিকে? আজাচৌ উত্তর দিলেন তুমিও তো ঘটি, ভারতীয়। ব্যাস লেগে যায় দুই বন্ধুর বাক বিতন্ডা। এরই এক পর্যায়ে, ছোট খাটো এক ধাক্কায় পড়ে যান আজাচৌ। আহত হন। নায়ক রাজ দ্রুত তাঁকে নিয়ে যান হাসপাতালে। ভর্তি করে বাসায় চলে যান। কিন্তু, এরই মধ্যে খবর চলে যায় প্রেস ক্লাবে নায়ক রাজ আজাচৌকে মেরেছেন। খবর পৌঁছে যায় আমাদের মানে চিত্রালী পাঠক পাঠিকা চলচ্চিত্র সংসদ এর কাছে। পরদিনই মিছিল। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশের ২২ টি শাখায়। পত্র পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। তখন সর্বাধিক প্রচারিত ‘ দৈনিক ইত্তেফাক’র রাজ্জাক অভিনীত সকল বিজ্ঞাপনে নায়ক রাজের মুখ ঢেকে দেয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক পূর্বাণীতেও তাই হলো। চিত্রালী সরকারি মালিকানাধীন। সেখানে হলোনা। আমাদের মানে চিপাচসের প্রচন্ড তান্ডবে চিত্রালী দিশেহারা। হুঁশ ফিরে পেয়ে এমন সব কান্ডের খবর পেয়ে আজাচৌ বেহুঁশ। পরে এর একটা সুষ্ঠু সম্মান জনক সুরাহায় বিষয়টির অবসান ঘটে। চিপাচসের ওই সম্মেলন শেষে সভাপতি ফজলুর রব স্বপন আমাকে বানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সম্পাদক। ভুলতে পারিনা শবনম কেন্দ্রীক সেই ঘটনা। ঢাকায় জন্ম নেয়া ঝর্না বসাক নামের যে মেয়েটি বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শিখেছিলেন। নাচতে গেছিলেন ‘আকাশ আর মাটি’ ছবিতে। নেচেছেন ‘এ দেশ তোমার আমার” ছবিতেও। তখনই চোখে পড়ে যান এহতেশাম আর মুস্তাফিজ ভাতৃদ্বয়ের। হয়েছিলেন ‘হারানো দিন’ ছবির নায়িকা। আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ঢাকা, করাচী এবং লাহোর, তিনটি চলচ্চিত্র নির্মান কেন্দ্রেই প্রচন্ড জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। তবে দেশ স্বাধীন হবার পর, দেশে ফেরেন নি শবনম। করাচী এবং লাহোরে অনেক ছবি ছিলো তাঁর। জনপ্রিয় ছিলেন পাকিস্তানে। পাকিস্তানের সম্মানজনক নিগার পুরস্কার পেয়েছেন ১২ বার। বাংলাদেশে ফেরেন তিনি স্বাধীনতার অনেক বছর পর। তবে এ দেশের চলচ্চিত্র, দেশের এই অভিনয় শিল্পীকে দুরে ঠেলে দেয়নি। আপন করে নিয়েছিলো। এ দেশেও তিনি পেয়েছেন লাক্স স্টাইল এওয়ার্ড এ আজীবন সম্মাননা। “আম্মাজান” ছবিতে নাম ভুমিকায় শবনমের অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শক মনে দাগ কেটে রয়েছে। গুণী এই অভিনয় শিল্পী ১৯৪০ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা এই শিল্পীকে।
মুজতবা সউদ