জন্মদিনে বাবার প্রতি সন্তান এর ভালোবাসা

শুভ জন্মদিন। ১৪ আগস্ট তোমার জন্মদিন। তোমাকে জন্মদিনে কি উপহার দিবো ? তোমার কাজের স্বীকৃতির জন্য জার্মান সরকার ব্রোন্জের প্লেটে নানান প্রশংসা লিখে উপহার দিয়েছে। জার্মান মিউনিক শহরের ততকালীন মেয়র তোমাকে মিউনিক শহরের চাবি উপহার দিয়েছেন। ভারত, ফ্রান্স,জার্মান ও রাশিয়ান সরকার সহ পৃথিবীর আরো অনেক দেশের সরকার তোমার উপর ডকুমেন্টরী করেছে। তাঁরা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন আমজাদ হোসেন কে ? মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গোলাপী এখন ট্রেনে নমিনেশন পায়। রাশিয়ান নেভী তোমাকে লাল গালিচা সম্ভর্ধনা দিয়ে রিভার ক্রুজে নিয়ে যান। মধ্য সাগরে নিয়ে গুলি ফুটিয়ে আতস বাজী উড়িয়ে তোমাকে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় গান বোর্ড সেলুট দেয় রাশিয়ান নেভী। সে সময় রাশিয়ান মহিলা কালচারাল অর্গানাইজেশন ও জার্নালিস্ট ফোরাম থেকে পুরোস্কৃত করেন। এছাড়া রাশিয়ার বিভিন্ন অন্চল ও বিভিন্ন সংগঠন বাবাকে পুরোস্কৃত করেন ও সংবর্ধনা জানান। গোলাপী এখন ট্রেনে ছবিটির কপি রাশিয়া ও ভারত সরকার তাদের অার্কাইভে সংরক্ষন করেছেন। ভারতের শিশির মন্চ বাবাকে সে সময় সংবর্ধনা দিয়ে অালোকিত করেছেন। শিশির মন্চে বক্তৃতা থেকেই অামজাদ হোসেন জন্ম দিয়েছেন কালজয়ী লেখা দ্বীখন্ডিতা। আমজাদ হোসেন একজন বীর মুক্তি যোদ্ধা। মুক্তি যুদ্ধের সাহিত্যে তিনি ভিশন সমৃদ্ধ। বাংলাদেশে মুক্তি যুদ্ধের প্রথম চলচ্চিত্র বাংলার মুখ তিনি নির্মান করেন। যা যুদ্ধ চলাকালীন সময় তৈরী করা হয়। কিন্তু বাংলার মুখ ছবিটি মুক্তি দিতে পারেননি। কারন, শাপদরা সাউন্ড নেগেটিভ ও পিকচার নেগেটিভ ল্যাব থেকে গায়েব করে দেন। বাংলাদেশের শ্রেস্ট কিছু চলচ্চিত্র যা আমজাদ হোসেনের স্পর্শ ছাড়া হয়নি। জীবন থেকে নেয়া, আবার তোরা মানুষ হ, জয় যাত্রা ছবিটি তাঁর উপন্যাস অবেলা অসময় থেকে নির্মিত হয়। সুজন সখী, বেহুলা লক্ষিনদর। আজ এই কিংবদন্তীর জন্মদিন। যদি বাবা আজ তুমি আমার পাশে থাকতে ? অামি তাঁকে একটি উপহার দিতাম। তোমারই লেখা উপন্যাস জন্মদিনের ক্যামেরা। মুক্তি যুদ্ধের অসাধারন সৃস্টি। অগ্রনী শিশু সাহিত্য পুরোস্কার প্রাপ্ত। অামজাদ হোসেন জাতীয় অান্তর্জাতিক বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন। সংস্কৃতির কোথায় তার পদোচারনা নেই ? সাহিত্য, কিশোর সাহিত্য, শিশু সাহিত্য,কবি, গীতিকার, নাট্যকার,উপন্যাসিক,ছোট গল্প, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্রকার,অভিনেতা ও প্রযোজক। তাঁর প্রতিভার সকল শাখায় তিনি অত্যন্ত সফল। বাংলাদেশ সরকার তাকে কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ,গীতিকার, পরিচালনা,প্রযোজনার জন্য ১৩ বার জাতীয় পুরোস্কারে সম্মানিত করেছেন। বিশেষ করে টেলিভিশন নাটকে একবারই জাতীয় পুরোস্কার দেয়া হয়। সে বছর অামজাদ নাট্যকার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান। দুই দুইবার অগ্রনী শিশু সাহিত্য পুরোস্কার পেয়েছেন। এবং বাংলাদেশ সাহিত্যের শীর্শ পুরস্কার বংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২১ শে পদকে সম্মানিত করেছেন। ৬ বার বচসাস পুরস্কার পেয়েছেন। কোন জায়গায় অামজাদ হোসেন সফল হয়নি? সর্বত্র সফল হওয়া মানুষ আমজাদ হোসেনের মতো অার ২য় আর কেউ নেই। তিনি জাতীর গর্ব অহংকার। একজন আমজাদ হোসেন বছরে বছরে, যুগে যুগে জন্ম হয়না। হয়তো শতাব্দীতে একজন আমজাদ হোসেন আসেন। তাঁর অভাব বাংলাদেশে কবে পুরন হবে? কবে আরেক জন আমজাদ হোসেন আসবেন? তুমি কি অন্ধকার কুঠরীতে ভালো আছো বাবা?
লেখক: সাজ্জাদ হোসেন দোদুল, ফেসবুক থেকে সংগৃহীত