শাহাদত চৌধুরী’র জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

শাহাদত চৌধুরী। কী পরিচয় দেব তাঁর। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। একজন সাংবাদিক। একজন সম্পাদক। একজন শিল্পী। (অনেক বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গ্রন্থের প্রচ্ছদ করেছেন তিনি)। একজন দিক নির্দেশক। ঢাকা চারুকলা ইন্সটিটিউট (তদানিন্তন ঢাকা আর্টস কলেজ) থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। দৈনিক ইত্তেফাকের কচি কাঁচার আসর পাতায় শুরু করেন সাংবাদিকতা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে, তিনি ভারত চলে যান। সেখানে বিশেষ ট্রেনিং শেষে, দুই নম্বর সেক্টরের অধীনে গঠিত, গেরিলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে ঢাকায় আসেন। এই বাহিনীর চাঞ্চল্যকর অপারেশন কাহিনী আজও মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। ১৯৭২ সালে তিনি সাপ্তাহিক বিচিত্রায় যোগ দেন। পরে সেখান থেকেই বের করেন পাক্ষিক আনন্দ বিচিত্রা। পত্রিকা দুটি বন্ধ হবার সময় পর্যন্ত শাহাদাত চৌধুরী এর সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশে ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন তাঁর উদ্যোগেই শুরু হয়। বিচিত্রা এবং আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ হবার পর তিনি সাপ্তাহিক ২০০০ এবং পাক্ষিক আনন্দধারা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠনে তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যাক্তিত্ব। সাপ্তাহিক সিনেমা ও দৈনিক বাংলার বানী’র বিনোদন বিভাগে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে চাকরি করার সময়, বন্ধু ইমরুল শাহেদের কথায় “আনন্দ বিচিত্রা’য় কলাম লিখতাম আমি। দীর্ঘ ৬ বছর নিয়মিত কাজ করেছি সেখানে। চেনা এবং পরিচয় অনেক আগে হলেও, তাঁর সান্নিধ্য পাওয়ার সূযোগ হয়েছিলো তখনই। পরামর্শ পাওয়া। উপদেশ পাওয়া। নিয়মিত কলামটি ছাড়াও দিয়েছেন বিশেষ কিছু প্রতিবেদনের কাজও। শিখিয়েছেন। তিনি আমার শিক্ষকও। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৩ সালের ২৮ জুলাই, সিংহ রাশিতে এই সিংহ পুরুষ জন্মগ্রহণ করেন। শাহাদত ভাই এর জন্মদিনে আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
মুজতবা সউদ