চলে গেলেন উপমহাদেশের ট্রাজেডি কিং দিলীপ কুমার

উপমহাদেশের ট্রাজেডি কিং হিসেবে খ্যাত অভিনয় শিল্পী দিলীপ কুমার আজ (৭ জুলাই ২০২১) সকালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজেউন। তাঁর আসল নাম মুহাম্মদ ইউসুফ খান। ভারতের পদ্মবিভূষণ (২০১৫), পদ্মভূষণ (১৯৯১), দাদা সাহেব ফালকে (১৯৯৪) পদকসহ তিনি আটবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার (আরও ১৯ বার পেয়েছেন মনোনয়ন) ছাড়াও পেয়েছেন অনেক অনেক পুরস্কার। চলচ্চিত্র সমালোচক, ভারতের ঋদ্ধজন এমনকি ভারতের অমিতাভ বচ্চন, দিলীপ কুমারকে হিন্দী চলচ্চিত্রের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বের হাতে গোনা যে ক’জনকে “ম্যাথোডিক্যাল অভিনেতা” হিসেবে উল্লেখ করা হয় তাদের একজন দিলীপ কুমার। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁকে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনীত করা হয়েছিলো। ১৯২২ সালের ১১ ডিসেম্বর তদানীন্তন বৃটিশ ভারতের (বর্তমানে পাকিস্তান) খাইবারে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ ইউসুফ খান। তাঁর বাবা ছিলেন সে সময়ের বিশিষ্ট ফল ব্যাবসায়ী। ১৯৩০ সালে তার পরিবার মুম্বাই চলে আসেন এবং স্থায়ী হন। ১৯৪৩ সালে “বম্বে টকিজ” এর হিমাংশু রায় এবং তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী দেবিকা রাণী একটি সামরিক ক্যান্টিনে দিলীপ কুমারের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁকে অভিনয়ের আমন্ত্রণ জানান। ১৯৪৪ সালে “জোয়ার ভাটা” ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন দিলীপ কুমার। তাঁর মৃত্যুতে হিন্দি চলচ্চিত্রে যেন একটা যুগের অবসান ঘটলো। মহান আল্লাহ যেন তাঁর সকল গুনাহ মাফ করেন এবং তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।
মুজতবা সউদ