প্রমীলা নজরুলের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

প্রমীলা নজরুল এর মহাপ্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী।। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর স্ত্রী প্রমীলা নজরুল ছিলেন বিদ্রোহী কবির জীবনে নেপথ্য প্রেরণা দাত্রী। প্রমীলা নজরুল এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানায় যমুনা তীরে তেওতা গ্রামে যে বিশাল জমীদার বাড়ি, তার পাশেই প্রায় এক বিঘা জমিতে প্রমীলার বাবা বসন্তকুমার সেনগুপ্ত’র বাড়ি। মা গীরিবালা দেবি। বনেদী পরিবার। এই বাড়িতেই জন্মেছিলেন প্রমীলা নজরুল। ১৯০৮ সালের ১০ মে জন্ম এবং ১৯৬২ সালের ৩০ জুন তিনি দেহত্যাগ করেন। পরিবার প্রদত্ত নাম আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে দোলোনা সংক্ষেপে দুলী। ‘প্রমীলা’ নামটি কাজী নজরুল ইসলামের দেয়া। পরবর্তীকালে আশালতা সেনগুপ্তা, প্রমীলা নজরুল, প্রমীলা দেবী, প্রমীলা সেনগুপ্ত ইত্যাদি নামে পরিচিতি লাভ করেন।
প্রমীলা নজরুল ৩০ বছর বয়সে ১৯৩৮ সালে পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন। আমৃত্যু (৩০ জুন ১৯৬২) তিনি ঐ অবস্থাতেই নজরুলের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রমীলা নজরুল এর ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে কাজী নজরুল ইসলাম জন্মভূমি চুরুলিয়ায় সমাধি করা হয়।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভালোবেসেছিলেন তাঁর প্রেয়সী প্রমীলাকে। তেমনি ভালোবেসেছিলেন প্রমীলার জন্মভূমি ছায়া ঢাকা – পাখি ডাকা, তেওতা গ্রামকে। নজরুল তেওতা গ্রামকে নিয়ে ‘ছোট হিটলার’ নামে এক অনবদ্য কবতিা রচনা করেন। কবির দু’ পুত্র সানি ও নিনির মুখ দিয়ে বলা হয়েছে। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়িতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নজরুল ও প্রমীলার অনেক স্মৃতি। কাজী নজরুল ইসলাম এই বাড়িতেই প্রমীলা দেবীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন-
“তুমি সুন্দর তাই
চেয়ে থাকি প্রিয়
সেকি মোর অপরাধ “!
মানিকগঞ্জের তেওতা জমিদার বাড়ি।তেওতা জমিদার বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে- আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রিয়তমা প্রমীলা দেবীর প্রেমের স্মৃতি। জমিদার বাড়ির পাশেই ছিল নজরুলের প্রিয়তমা স্ত্রী প্রমীলা দেবীর বাড়ি।প্রমীলা দেবীর পিতা বসন্ত সেনের ভ্রাতুষপুত্র বীরেন সেনের সঙ্গে কবির পরিচয় সুত্র ধরে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত।এভাবেই প্রমীলা দেবীর (ডাকনাম দুলী) সঙ্গে নজরুলের প্রেম। প্রমীলা – কাজী নজরুল ইসলামকে কবি’দা বলে ডাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেওতা জমিদার বাড়িটির বয়স ৩০০ বছর ছাড়িয়েছে। জেলার ইতিহাস থেকে জানা গেছে, সপ্তদশ শতকের শুরুতে পাচুসেন নামের পিতৃহীন দরিদ্র এক কিশোর তার সততা আর চেষ্টায় তামাকের ব্যবসা করে বিপুল ধন সম্পদ অর্জন করেন । দরিদ্র পাচুসেন দিনাজপুরের জয়গঞ্জে জমিদারী কিনে হয়ে যান পঞ্চানন সেন। তারপর মানিকগঞ্জ শিবালয়ের তেওতায় তিনি এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন।
জমিদার বাড়ির মূল ভবনের উত্তর দিকের ভবনগুলো নিয়ে হেমশংকর এস্টেট এবং দক্ষিন দিকের ভবনগুলো নিয়েছিল জয়শংকর এস্টেট। প্রতিটি এস্টেটের সামনে বর্গাকৃতির অট্টালিকার মাঝখানে আছে নাটমন্দির। পূর্ব দিকের লালদিঘী বাড়িটি ছিল জমিদারদের অন্দর মহল। অন্দর মহলের সামনে দুটি শান বাঁধানো ঘাটলা, এর দক্ষিন পাশের ভবনের নীচে রয়েছে চোরা কুঠুরী – যাকে এলাকার মানুষেরা বলে অন্ধকুপ। উত্তর ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৪ তলা বিশিষ্ট ৭৫ ফুট উচ্চতার নবরত্ন মঠ। এর ১ম ও ২য় তলার চারদিকে আছে ৪টি মঠ। তেওতা জমিদার বাড়িটি ৭.৩৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই জমিদার বাড়িটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম -প্রমীলার স্মৃতিধন্য এ বাড়িটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অনেক পযটক আসে।
মুস্তবা সউদ