ভালোবাসায় স্মরন করছি জনপ্রিয় অভিনেতা শওকত আকবরকে

শওকত আকবর। চিকিৎসক হবার কথা ছিলো তাঁর। কিন্তু কিশোর বেলা থেকেই নাটকে অভিনয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ তাঁকে টেনে নিয়ে আসে সিনেমায়। এল,এম,এফ কোর্স শেষ না করে, ১৯৬৩ সালে ‘এই তো জীবন’ ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। চোখে পড়েন অনেকেরই। আরো ক’টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন। আগেই মুক্তি পেয়ে যায় ‘তালাশ’ এবং ‘পয়সে’। প্রথম ছবিটি মুক্তি পায় পরে। তারপর সমান তালে অভিনয় করেন একের পর এক। নায়ক হয়েছিলেন ক’টি ছবির, তবে স্থিত হন পার্শ্ব চরিত্রে। সে সময়ের নানা মুখি চরিত্র সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রে, তিনি হয়ে ওঠেন কাংখিত শিল্পী। একটি ‘জীবন থেকে নেয়া’ বা ‘অবুঝ মন’ ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রে, শওকত আকবর ছাড়া অন্য কোন শিল্পীকে ভাবা কষ্টকর। বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বংগে ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ ছবির অভাবনীয় সাফল্যের পর, উভয় চলচ্চিত্র শিল্পে এ ধরনের ছবি বানাবার হিড়িক পড়ে যায়। সে সব ছবিতে রাজকীয় চরিত্রে শওকত আকবর হয়ে ওঠেন অপরিহার্য শিল্পী। পশ্চিম বংগের দর্শকদের কাছে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন ‘রাজাবাবু’ নামে। কিন্তু, ভেতরে ভেতরে এই রাজাবাবুর অন্তরে জমে ছিলো ভারী কান্নার জমাট হওয়া বরফ। ১৯৮৮ সালের বন্যায়, ত্রান বিতরণে গিয়ে ত্রানবাহী নৌকা উল্টে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে তাঁর ছেলের। অভিনয়ে ব্যাস্ত থেকে এই শোক চেপে রাখতেন শওকত আকবর। যখন রাজকীয় ছবি বানানোর ঢল কমে এলো। ব্যাস্ততা গেলো কমে। তখন আর দেশে থাকতে পারলেন না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত প্রায় আড়াই’শ ছবির অভিনেতা। চলে গেলেন লন্ডনে। সেখানেই ২০০০ সালের ২৩ জুন প্রয়াত হন শওকত আকবর। শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় স্মরন করছি এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে।
মুস্তবা সউদ