শ্রদ্ধা জানাই উপমহাদেশের প্রথম বিশ্ব সেরা সুন্দরী গায়ত্রী দেবীকে

আবার বলবো সেই রাজকন্যার কথা। উপমহাদেশের প্রথম বিশ্ব সেরা সুন্দরী। যার পুরো জীবনটায় রাজকীয়। অবিভক্ত বঙ্গের কুঁচবিহার রাজ্যের মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণের কন্যা তিনি। নাম গায়ত্রী দেবী। ভারতের ফ্যাশন জগতের রাজকন্যাও তিনি। ১৯৫০ দশকের গোড়ায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনকারী “VOGUE” ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের সেরা সুন্দরী নির্বাচন করে। তাদের বিবেচনায় তখনও পর্যন্ত তিনি বিশ্বের সেরা দশ সুন্দরীর একজন। সে সময় মিস ওয়ার্ল্ড বা মিস ইউনিভার্স শুরু হয়নি। মিস ওয়ার্ল্ড শুরু হয় ১৯৫১ সালে, মিস ইউনিভার্স শুরু হয় ১৯৫২ সালে। “VOGUE” ম্যাগাজিনের বিবেচনাই সে সময় বিশ্বের সেরা সুন্দরীর মাপকাঠি। গায়ত্রী দেবী গোটা ভারতে ফ্যাশন জগতের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর বিয়ে হয় জয়পুরের রাজপুত্র মানসিংহ ২ এর সংগে। পরে মানসিংহ ২ রাজা হলে তিনি হন জয়পুরের মহারানী। এরপর ফ্যাশন দুনিয়া থেকে তিনি আসেন রাজনীতিতে। লোকসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গায়ত্রী দেবী যে বিশাল ব্যাবধানে কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করেন, তা আজও ‘গীনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এ লিপিবদ্ধ রয়েছে। কোন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘রুলিং পার্টির’র বিরুদ্ধে নির্বাচন করে এমন ব্যবধানে বিজয়ী হবার ঘটনা আর ঘটেনি। এখানেই শেষ নয়। তাঁর ছেলের বিয়ে হয়েছে থাইল্যান্ডের রাজকন্যার সঙ্গে। থাই রাজার জামাতার দেশ বলেই কিনা জানিনা ভারতীয় পাসপোর্ট এ থাইল্যান্ড ভ্রমণে আগাম ভিসার প্রয়োজন হতো না, পোর্ট এন্ট্রি ভিসা দিয়েই ভারতীয়রা থাইল্যান্ড ভ্রমণ করতে পারতেন। অন্ততঃ ২০০০ সাল পর্যন্ত আমি এটা দেখেছি। বাল্যকালে বিদেশে পড়লেও তাঁর মুল পড়াশোনা কবিগুরুর “শান্তি নিকেতনে”। গায়ত্রী দেবী ১৯১৯ সালের ২৩ মে জন্মগ্রহন করেন। শ্রদ্ধা এই মহারানীকে।
মুজতবা সউদ