সারিকার ‘সরি’

শিল্পী সুলভ আচরণ না করার জন্য মডেল অভিনেত্রী সারিকাকে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
গত ২১ মার্চ নাটকের শুটিংয়ে নেপাল যাওয়ার কথা ছিল অভিনেত্রী সারিকার। সে অনুযায়ী সারিকা সিডিউল দিয়েছিলেন। নাটকের চিত্রনাট্য, নেপালের রিটার্ন টিকেটসহ অগ্রিম পারিশ্রমিক ৫০ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়েছিল।
আগের দিন ২০ মার্চ সারিকার সাথে শুটিং ইউনিট যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সময়মতো বিমানবন্দর পৌঁছাবেন। যথারীতি ২১ মার্চ শুটিং ইউনিট নেপালে রওনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর গেলে সারিকাকে পাওয়া যায়নি। তখন যোগাযোগ করলে সারিকার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সারিকা ছাড়াই শুটিং ইউনিট নেপাল পৌঁছায়। কিন্তু তিনি না থাকায় তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করা নাটকগুলো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রযোজক আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন।
নাটকগুলো নির্মাণের কথা ছিল নির্মাতা দীপু হাজরা ও আসাদুজ্জামান আসাদের। পরে নেপাল থেকে ফিরে প্রযোজক বোরহান খান টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশনে সারিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশন এবং অ্যাক্টর ইকুইটি নানাভাবে সারিকার সাথে যোগাযোগ করলেও কোনো সদুত্তর পায়নি। বাধ্য হয়ে সারিকাকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটি থেকে পরিস্কারভাবে লিখিত আকারে জানানো হয়, এই নির্দেশ অমান্য করে সারিকাকে নিয়ে নাটক, মিউজিক ভিডিও, বিজ্ঞাপনসহ এ ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের ফেসবুকে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে এ নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন সারিকা। সেখানে তিনি লিখেছেন, গত কয়েক মাস আমার জীবনে কঠিন সময় গেছে। সামলে নিতে সময় লেগেছে। আমার মেয়েকে স্কুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছিলাম। আগামী সপ্তাহ থেকে সে স্কুলে যাবে। এরপর আবার হয়তো নাটক কিংবা বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং শুরু করতে পারব।
তিনি আরও লিখেছেন, সরি, পাঁচ অক্ষরের একটা শব্দ। সবার কাছে আজ সত্যি মনের গভীর থেকে মাফ চাইছি পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে। কখনো যদি জেনে বা না জেনে এতটুকু আঘাত করে থাকি, অনুগ্রহ করে ক্ষমা করবেন। আমার চারপাশের কঠিন পরিস্থিতি ও শারীরিক সমস্যার কারণে কিছু জটিলতায় ভুগছিলাম। তবে এটাও মানছি, সব তা না। নিজের ব্যাপারেও সতর্ক ছিলাম না, ভুলত্রুটি যতটুকু পারি শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ শেখার না আছে শেষ, না আছে বয়স। আজ না হয় পুরোনো কষ্ট মুছে ফেলে নতুন করে শুরু করি সব। আমরা সবাই এক।
আলমগীর কবির