মাস্কবিহীন জন্মদিন পালনে সমালোচনায় শাকিব খান

শাকিব খানের জন্মদিন পালনে, ভ্রু কুঁচকে গেছে সচেতন মানুষের। সামাজিক অংগীকার ছাড়া কোন শিল্পীই বড়ো শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন না। আর বাংলাদেশে যখন করোনা প্রকোপ শংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাগরিকদের দিয়েছেন ১৮ টি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ। যার মধ্য মাস্ক ব্যাবহার এবং যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখা অন্যতম। সকল প্রচার মাধ্যমে চলছে ঘন ঘন প্রচারনা। এমন কি গণপরিবহনে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য, অর্ধেক যাত্রী নিতে বলা হচ্ছে। ঠিক সে সময় পাবনার একটি রিসোর্টে, হাতি আনিয়ে, ফানুস উড়িয়ে, কোনরকম মাস্ক ব্যাবহার না করে, অনেক মানুষের সঙ্গে ঘন হয়ে জন্মদিন পালন, এ দেশের সচেতন মানুষ বিরূপ চোখে দেখছেন। তার উপর এই অনুষ্ঠানের ভিডিও ফুটেজ আপলোড করা হয়েছে ইউটিউবে। দেখছেন সরল সহজ মানুষেরা। এটা কোন মতেই একজন শিল্পীর কাছ থেকে আশা করা যায়না। বিশ্বের তামাম বড়ো মাপের তারকারা জনসম্মুখে উপস্থিত হচ্ছেন মাস্ক পরে। কেউ সচেতনতার কথা বলছেন, কেউ বলছেন না কিন্তু ফ্যান বা অনুরাগীরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, মাস্ক ব্যাবহার করেন এবং নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখেন, সে বিষয়টি মাথায় নিয়েই প্রকাশ্যে আসছেন, ছবি তুলছেন। এই তো কিছুদিন আগে, বিশ্বের জীবন্ত নায়িকাদের মধ্যে সেরা সুন্দরী হিসেবে বিবেচিত, ঠোঁট র‍্যাংকিং এ যিনি এখনো বিশ্বে এক নম্বর সেই মনিকা নিজের অসাধারণ ঠোঁট ঢেকে মাস্ক পরে ছবি প্রকাশ করেছেন। ভারতের বড়ো মাপের তারকারাও সামাজিক সচেতনতা গড়তে প্রচার চালাচ্ছেন, জনসম্মুখে আসছেন মাস্ক পরে। সে ক্ষেত্রে ঢাক বাজিয়ে, দুই হাতি এনে, অনেক অনেক মানুষের সঙ্গে মাস্ক ছাড়াই ঘন হয়ে জন্মদিন পালন, তার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ কোন শিল্পীর কাজ নয়। একজন শিল্পীর মধ্যে রাজনৈতিক অংগীকার না থাক সামাজিক অংগীকার থাকতেই হয়। মাস্ক না পরে, অনেক মানুষের সমাবেশে ঘন হয়ে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে করোনাকালীন রাস্ট্রীয় আইন রয়েছে। দেশের কোন মানুষই এই আইনের ঊর্ধ্বে নন। শাকিব খানের ঘটনাটায় রাস্ট্র কী ব্যাবস্থা নেবে জানিনা। তবে, এই ঘটনার পর শাকিব খানকে খুব ভালো অভিনেতা, অনেক পারিশ্রমিক নেয়া নায়ক বলা গেলেও বড়ো শিল্পী বলা দুস্কর।
মুজতবা সউদ