‘কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য সম্মাননা-২০২১’ পেলেন সাংবাদিক মোস্তফা মতিহার

ঢাকার ঐতিহ্য বিউটি বোর্ডিং, আহসান মঞ্জিল, টমটম, শাঁখারি বাজার, সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি রাজা মানসিংহের স্মৃতিবিজড়িত গঙ্গাসাগর দিঘী, হোসেনী দালান, লালবাগ কেল্লা, জামদানি ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে বিশ্লেষনধর্মী প্রতিবেদন তৈরির জন্য তাকে এই সম্মাননা প্রদান করে লেখক উন্নয়ন কেন্দ্র। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ১১৯তম জন্মদিন উদযাপনের অংশ হিসেবে জসীমউদ্দীন সাহিত্য উৎসবে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তার (মোস্তফা মতিহার) হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক রফিকুল হক দাদুভাই। এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শওকত আলী।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতিতে মোস্তফা মতিহার বলেন, ‘পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা নয়। আমি মনে করি না, পুরস্কার পেলেই কেউ বড় লেখক হয়ে গেল। পুরস্কার হচ্ছে ভালোবাসার এক ধরণের বহিঃপ্রকাশ। পুরস্কার বা সম্মাননা এর আগে বহুবার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সবগুলিই বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করেছি এবং এড়িয়ে গেছি।’ পুরস্কারের বিষয়ে বরাবরেই অনীহা থাকলেও এবারের পুরস্কারটি কেন গ্রহণ করলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পল্লীকবির কবর, পল্লীজননী, নিমন্ত্রণ, আসমানী, ইত্যাদি কবিতাগুলো পড়ে বড় হয়েছি। এই কবিতাগুলো শৈশবে আমাকে কখনও কাঁদাতো, আবেগাপ্লুত করতো, শিহরিত করতো, হৃদয়ের মনিকোঠায় সজোরে আঘাত করে যেত। সময় পেলেই জসীমউদ্দীনের কবিতা আবৃত্তি করতাম। যে কবি আমার ধ্যান-জ্ঞানে ছিল, সে কবির নামাঙ্কিত পুরস্কার পাওয়াটাও অনেক ভাগ্যের ব্যাপার।’
ভবিষ্যতে আর কোন পুরস্কার নিবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পুরস্কার বা সম্মাননা অনেক সম্মানের। যে পুরস্কারে সম্মান আর মর্যাদা থাকবে সে ধরণের পুরস্কার পেলে অবশ্যই নিবো। তবে আমি মনে করি, সম্মান অর্জন করার চেয়ে সেই সম্মানটা ধরে রাখাটাই বড় ব্যাপার। পুরস্কার পাওয়া মানে দায়িত্ববোধ বেড়ে যাওয়া। ভবিষ্যতে অন্য কোন পুরস্কার বা সম্মাননা পাওয়ার চেয়ে বর্তমানের সম্মানটা ধরে রাখাটাই মূখ্য বিষয়।’
আলমগীর কবির