বীর মুক্তিযোদ্ধা চলচ্চিত্র শিক্ষক আলমগীর কবিরের আত্মা যেন শান্তিতে থাকে

আলমগীর কবির। আজন্মকালের এক যোদ্ধা। ফিলিস্তিন, আলজেরিয়ার মুক্তিকামী মানুষের সাথী, ফিদেল ক্যাস্ট্রোর স্নেহভাজন সাংবাদিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র ও ক্যামেরা হাতে ঝাঁপিয়ে পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি সংবাদ বিভাগের প্রধান আলমগীর কবির। সাংবাদিক, শিক্ষক, পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আমার চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রধান শিক্ষক। চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী হিসেবে পদে পদে পেয়েছি উনার সহযোগিতা। সেমিনার, ওয়ার্কশপ, আলোচনা সভায় উনাকে ডাকলেই পেয়েছি। পুনা ফিল্ম ইন্সটিটিউট -এর অধ্যাপক সতীশ বাহাদুর -এর কাছে ৪ মাসের একটি বিশেষ কোর্স করার পর, একদিন উনি চলচ্চিত্র সংসদ কর্মীদের ডাকলেন এক চাইনিজ রেস্তরাঁয়। গঠিত হল “বেটার সিনেমা ফ্রন্ট”। উনি সভাপতি, রফিকুজ্জামান সহ-সভাপতি, শামীম আলম দীপেন সাধারন সম্পাদক, আমি যুগ্ন সম্পাদক। সভা শেষে বেরুনর সময় আমাকে ডাকলেন। বললেন, ‘আর কত ওয়ার্কশপ, সেমিনার, পড়াশোনা। ফিল্ডে নামো। কাজ করো আমার ছবিতে। ধরে নাও ইন্টার্নি করছো।’ রাজি হয়ে গেলাম। উনার ছবি ‘পরিনীতা’য় সহকারি পরিচালক হয়ে হাতে কলমে শিখলাম অনেক। “শিল্পাচার্য জয়নুল” তথ্যচিত্র বানাতে গিয়ে চিত্রকলা বিষয়েও সমৃদ্ধ হলাম বেশকিছুটা। ক্যামেরা, লেন্স এর ব্যবহার এসব তো রয়েছেই। পেয়েছেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’, বিভিন্ন শাখায় পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, জহির রায়হান উত্তরণ চলচ্চিত্র পুরস্কার, সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ পুরস্কার সহ দেশ ও বিদেশের আরও অনেক পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। তাঁর পরিচালনার তিনটি চলচ্চিত্র বৃটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের ‘বাংলাদেশের সেরা দশ চলচ্চিত্র’ তালিকায় স্থান পেয়েছে। সেই যোদ্ধা, সেই শিক্ষক ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারী, বেপরোয়া এক ট্রাকের ধাক্কায়, নগর বাড়ী ঘাটের পল্টুন থেকে গাড়ি সহ ছিটকে পড়লেন যমুনায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত হলেন আজন্ম শান্তিকামী মানুষের জন্য যুদ্ধ করা মানুষটি। তাঁর আত্মা যেন শান্তিতে থাকে।
মুজতবা সউদ