এস এ রুবীর বাঁশির সুরে অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন

ভিন্নরকম আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মোড়ক উন্মোচন হলো জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী এস এ রুবীর গানের অ্যালবাম ‘বাঁশির সুরে’। করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্প্রতি রাজধানীতে শিল্পীর বাসায় খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীতঙ্গের উপস্থিতিতে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। দেশের অন্যতম অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সঙ্গীতার ব্যানারে অ্যালবামটি বাজারে এসেছে। বুকে দাগা দিয়া, রঙ্গিলা বন্ধুরে, শহর থেকে দূরে, না গোনা, সেদিন আকাশে মেঘ করেছিলো, তোমার চোখের দুষ্টু হাসি, বৃষ্টি ছোঁবো, আমি সুখি তোমায় ভালবেসেছি-এই শিরোনামের ৮টি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে অ্যালবামটি। গানগুলোর সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন শেখ সাদী খান, আলী আকবর রুপু, মিল্টন খন্দকার, দেলোয়ার আজুদা শরফ এবং বাপ্পা চ্যাটার্জী প্রমুখ। গানগুলো অ্যালবামের পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘এস এ রুবী’ সাবস্ক্রাইব করেও শোনা যাবে। এই চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজে শিল্পীর আরো অনেক নতুন গান আছে। যার মধ্যে শিল্পীর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘হৃদয়ে তুমি’র ১০টি গান রয়েছে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শিল্পীকে শুভকামনা জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক-এ ভূষিত খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী খুরশিদ আলম। তিনি বলেছেন, এস এ রুবীর ‘বাঁশির সুরে’ অ্যালবামের প্রতিটা গান আমি শুনেছি। গানগুলোতে সব ধরণের শ্রোতাদের আকৃষ্ট করার মতো বিষয় রয়েছে। তবে আমার ভালো লেগেছে রুবীর গায়কীর নিজস্ব ঢংয়ের জন্য। অনেকেই সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য অন্ধভাবে অন্যকে অনুকরণ করেন, নকল করেন। এতে সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হওয়া গেলেও শ্রোতাদের মনে বেশি দিন স্থায়ী হওয়া যায় না। এই জায়গাটায় রুবী অন্যরকম। তার সবগুলো গান স্বতন্ত্র, সুরের মধ্যেও একটা মায়া আছে, রোমাঞ্চ আছে।
করোনা মাহামারীর মধ্যে অ্যালবাম প্রকাশ প্রসঙ্গে এস এ রুবী বলেন, এই অ্যালবামটি আমার অনেক দিনের পরিকল্পনার ফসল। চলতি বছরের শুরুর দিকে এটির মোড়ক উন্মোচন পরিকল্পনা ছিল; হঠাৎ মহামারীর কারণে সব এলোমেলো হয়ে যায়। এরমধ্যে শারিরিকভাবেও আমি একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছি। এজন্য আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেশের বাইরে যাবো। তাই ভাবলাম অ্যালবামটি দ্রুত প্রকাশ করে যাওয়াই ভালো। কারণ আমি গানের মানুষ গানগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে না পারলে আমার ভালো লাগবে না।
বাঁশির সুরে-অ্যালবাম প্রকাশনা অনুষ্ঠানের বিশেষ আরেকটি দিক ছিল গানে গানে প্রকাশনা উৎসবকে উদযাপন করা। এ প্রসঙ্গে এস এ রুবী বলেন, ‘মহামারী না থাকলে অনেক বড় করে প্রকাশনা অনুষ্ঠান করার পলিকল্পনা ছিল। সেটি যখন করা সম্ভব হয়নি। তখন ভাবলাম ওই আয়োজনের অবয়বটা অন্তত থাকুক। একারণেই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মোট ৭টি গান নতুন করে রেকর্ড করেছি। যে গুলো শিগগিরই ‘এস এ রুবী’ ইউটিউব চ্যালেলে প্রকাশ হবে ভিডিও আকারে।’ গানগুলো রেকর্ডের সময় রুবীর সাথে কি-বোর্ডে ছিলেন রুপতনু এবং তবলা বাদক মিলন ভট্টাচার্য।
গানের পাশাপাশি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসাবে কাজ করছেন এস এ রুবী। তবে তিনি সবসময় নিজেকে শিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতেই সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি বলেন, আমার কাছে সবার আগে শিল্পী সত্ত্বা। যতদিন বাঁচব গান নিয়ে থাকতে চাই। আর এই ক্ষেত্রে আমি কখনো প্রতিযোগীতা পছন্দ করি না। নিজের কাজকে একনিষ্ঠভাবে করে যেতে ভালোবাসি। আর সবার সাথে মিলে মিশে থাকতেই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। শ্রোতা এবং দর্শকদের কাছে দোয়া চাই, চিকিৎসা শেষে আবার যেন সবাইকে ভালো ভালো গান উপহার দিতে পারি এবং আজীবন গানের মধ্যে থাকতে পারি।
আলমগীর কবির