সবেদার যত উপকারীতা

প্রকৃতি প্রদত্ত ফলের নেই কোনো তুলনা। আমাদের অতি পরিচিত সুমিষ্ট এবং সুলভে পাওয়া যায় এমন একটা ফল হল সবেদা। অনেকে সফেদা বা চিকু নামেও চেনে। এটি বহু বর্ষজীবী এবং চিরসবুজ বৃক্ষ। এর আদি নিবাস মেক্সিকোর দক্ষিণাংশ, মধ্য আমেরিকা। ক্যারিবীয় অঞ্চলের উপকূলীয় উইকাতানে এই গাছ প্রাকৃতিকভাবে বিস্তার লাভ করেছ। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মেক্সিকোতে এর প্রচুর ফলন হয়। এই গাছের ছালে প্রচুর পরিমাণে সাদা আঠালো কষ থাকে এটি ‘চিকল’ নামে পরিচিত। দুধের ন্যায় দেখতে এই কষ বেশ আঠালো। এক সময় চুইংগাম শিল্পে এটি অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতো। এই ফলটি গাছ থেকে না পাড়লে সহজে পাকে না। ফলটির ভেতরে কালো রঙের বীজ থাকে এবং যে নরম সুমিষ্ট শাঁস থাকে তা আমরা খাই।
এই ফলে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পর্যাপ্ত খাদ্য আঁশ, ক্যালসিয়াম আয়রন, ফসফরাস, গ্লুকোজ, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, তামা, লোহা ইত্যাদি পাওয়া যায়।
(১) নিয়মিত সবেদা খেলে মুখের ক্যান্সার দূর হয় এবং দাঁত মজবুত হয়।
(২) এতে উপস্থিত ভিটামিন এ চোখের সুরক্ষার কাজ করে। রাতকানা রোগের ঝুঁকি কমায়।
(৩) এতে আছে ভিটামিন সি যা আমাদের নীরোগ রাখতে সাহায্য করে।
(৪) সবেদা ওজন কমাতে সাহায্য করে। সবেদায় চর্বি থাকে না তাই মেদ বাড়ার ভয় ও থাকে না।
(৫) সবেদায় প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ আছে যা আমাদের শক্তি প্রদান করে।
(৬) এতে মানসিক চাপ কমানোর উপাদান আছে। যারা অনিদ্রা, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় ভুগছেন ডাক্তার তাদের সবেদা খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি স্নায়ুকে শান্ত রাখে।
(৭) গর্ভাবস্থায় মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে।
(৮) এটি একটি ফাইবার সমৃদ্ধ ফল তাই এটি প্রাকৃতিক জোলাপ হিসেবেও ব্যাবহার হয়। হজম, বদহজম এবং কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
(৯) নিয়মিত সবেদা খেলে বারে বারে ঠান্ডা লাগা কমে যায়। শ্বাসকষ্ট দূর করতে সাহায্য করে এবং ফুসফুস ভালো রাখে।
(১০) এতে ভিটামিন এ আছে যা ত্বক, চোখ এবং হাড়ের জন্য উপকারী।
(১১) এতে প্রদাহ বিরোধী উপাদান আছে ফলে ক্ষয় কারক গ্যাসট্রিক, আন্ত্রিক প্রদাহ,পেট জ্বালা প্রভৃতি রোগের সমাধান করে।
(১২) সবেদার বীজের চূর্ন খেলে কিডনির রোগ ভালো হয় এবং মূত্রাশয়ের পাথর অপসারণে সহায়তা করে।
মধুমিতা শাস্ত্রী