টু-লেট আর টু-লেট

করোনার কারনে নিন্ম আয়ের মানুষ যতটা বিপদে পড়ছে তার চেয়ে বেশি বিপদ ও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে নিন্ম মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ। পরিসংখ্যান মতে, দেড়হাজার বর্গকিলোমিটারের ঢাকা নগরীতে প্রায় ২ কোটি মানুষ বসবাস করে। যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই ভাড়া বাসার বাসিন্দা। কিন্তু দেশে মার্চ থেকে করোনা ভাইরাস হানা দেওয়ার পর কোন রকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকা নিন্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর স্বপ্ন ভাঙতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ব্রাকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ৩৬ শতাংশ মানুষ চাকুরী হারিয়েছেন। ৩ শতাংশের চাকুরী থাকলেও বেতন পান না। দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে যারা কাজ করেন তাদের ৬২ শতাংশই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে ঢাকা জেলার মানুষের আয় কমেছে ৬০ শতাংশ। ব্রাকের গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ী চাকুরী হারানো ৩৬ শতাংশ ব্যাক্তির বেশিরভাগ অংশই ঢাকার বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে শুরু করেছেন। গত জুন ও জুলাই মাসে গোটা রাজধানী জুড়ে ভাড়াটিয়াদের বাড়ী ছেড়ে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়েছে। পিকআপ ভ্যানগাড়ী বা ট্রাকে করে মালামাল ভরে গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন এসব পরিবার। রাজধানী ছাড়ছেন অসহায়রা, ভবনে ভবনে টু-লেট। রাজধানীর দেয়ালে দেয়ালে আগেও ছিল বাড়ী ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি। তাতে ছিল এ শহরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার যুদ্ধ। কিন্তু এবারের টু-লেট যেন জানান দিচ্ছে ভাড়াটিয়াদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ, অসহায়ত্ব আর বঞ্চনার প্রতিবাদ। যে সব বাড়ীতে সর্বোচ্চ একটি বা দুটি টু-লেট ছিল এখন সেখানে ঝুলছে ৪ থেকে ৫টি টু-লেট। ভাড়াটিয়াদের কন্ঠে যখন নিরুপায়ের আবেদন তখনও নমনীয় নন এশহরের বাড়ীওয়ালারা। নিরবে নিঃশব্দে অনেকেই ছেড়ে যাচ্ছেন প্রাণের শহর ঢাকা। দীর্ঘ বছর ছেলেমেয়ে, পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করলেও এ শহর তাদের নয়। মালপত্র আর ঘটিবাটি নিয়ে ঢাকা ছাড়ার সময় শুধু তাকিয়ে থাকেন চেনা রাস্তা আর চেনা মানুষগুলোর দিকে।
ইকবাল হোসেন সোহাগ