চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট অনুমোদন, তথ্যমন্ত্রী চেয়ারম্যান

অক্ষম, অসমর্থ ও অসচ্ছল এবং অসুস্থ চলচ্চিত্র শিল্পী এবং মৃত শিল্পীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০২০’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেন।
মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয় থেকে ছয়জন মন্ত্রী অংশ নেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ ট্রাস্টের বোর্ড চেয়ারম্যান থাকবেন তথ্যমন্ত্রী। আর ১৩ জনের বড় একটি টিম আছে, তারা ট্রাস্টের সব কিছু দেখাশোনা করবেন। ট্রাস্টের একজন এমডি থাকবেন, তিনি হবেন নির্বাহী প্রধান। তারা তাদের নিজস্ব ফান্ড ও সরকারের দেওয়া ফান্ড নিয়ে ট্রাস্ট পরিচালনা করবেন। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ বা গ্র্যান্টও নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নিতে হবে, যাতে এমন কোনো ঋণ নেওয়া না হয়, যা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের ওপর চেপে বসে।
শিল্পীরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী আয় বর্ধক বিভিন্ন কার্যক্রমও চালাতে পারবেন এবং এখান থেকে যে টাকাটা তাদের মুনাফা থাকবে, সেটা দিয়ে ওপরের পাঁচটি ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র শিল্পীদের সহায়তা করতে পরবেন, যোগ করেন সচিব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, কোনো চলচ্চিত্র শিল্পী যদি মারা যান, তাদের ওপর নির্ভরশীলরাও যাতে সহায়তা পান, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট গড়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক তথ্য মন্ত্রণালয় সব আনু্ষ্ঠানিকতা শেষ করে এ আইনের খসড়া উপস্থাপন করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো- চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণ সাধণ, পেশাগত কাজ করতে অক্ষম, অসমর্থ ও অসচ্ছল চলচ্চিত্র শিল্পীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া, অসচ্ছল ও অসুস্থ চলচ্চিত্র শিল্পীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া এবং কোনো চলচ্চিত্র শিল্পীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।
রোমান রায়