রক্তশূন্যতা দূর করে লটকা

বর্তমানে ভারতবর্ষের নানা জায়গায় রথযাত্রার মেলা শুরু হয়েছে। আপনারা কি জানেন পশ্চিমবঙ্গের অনেক জেলাতে লটকা ফলটি ছাড়া রথযাত্রার মেলা পরিপূর্ণতা পায় না। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, ধূপগুড়ি, মাথাভাঙা, শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, নবদ্বীপ ইত্যাদি স্থানে রথের মেলার প্রধান অংশ হিসাবে লটকা স্থান পেয়েছে। আজ লটকা ফলের ব্যাপারে বিস্তারিত ভাবে জানানোর চেষ্টা করছি।
লটকা সম্পর্কে কিছু তথ্য : লটকা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Baccaurea motleyana’. এই ফলটি নানা নামে পরিচিত যেমন– লটকন, বুবি, কানাইজু, হাড়ফাটা, কিছুয়ান প্রভৃতি। এই গাছটি চিরহরিৎ বৃক্ষ সাধারণত ছোট কান্ডের উপর প্রশস্ত মুকুটের মত অংশ থাকে। লম্বায় ৯ মিটার থেকে ১২ মিটার হতে পারে। পাতার উপরের পৃষ্ঠে চকচকে সবুজ ও নীচে সবুজ বাদামী এবং লোমশ হয়। আলাদা আলাদা গাছে পুরুষ এবং স্ত্রী ফুল হয়। ছোট ছোট হলুদ ফুল হয় এবং উভয় রকম ফুলই সুগন্ধি। থোকায় থোকায় ফল জন্মায়। কাঁচা ফল সবুজ এবং পাকলে হলুদ বর্ন ধারণ করে। কিছু কিছু জাতের ফল আবার হলদেলাল আভা যুক্ত হয়।
ফলের আকার দুই থেকে পাঁচ সেমি হয়। ফলের মধ্যে এক থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বীজ হতে পারে।বীজের গায়ে রসালো অংশ থাকে, যা জাতি ভেদে টক, টকমিষ্টি বা মিষ্টি হয়। এই গাছ ছায়া যুক্ত স্থানে ভালো জন্মায়। এই ফলগাছ দক্ষিণ এশিয়ার বুনো গাছ হিসাবে পরিচিত। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু হয়েছে।
পুষ্টিগুণ: লটকাতে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে আর খেতেও সুস্বাদু। এই ফলে রয়েছে ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন-বি১ ,বি২, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, এনজাইম এ ছাড়া ও অনেক রকম খনিজ পদার্থ আছে।
উপকারিতা : লটকাতে আয়রন থাকার জন্য রক্তশূন্যতা দূর করে। বমি বমি ভাব, তৃষ্ণা দূর করতে এই ফল অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও মুখের স্বাদ বাড়াতে ও রুচি বাড়াতে অত্যন্ত লাভ জনক। এই ফল গাছের শুকনো পাতা গুড়ো করে খেলে ডায়রিয়া ও মানসিক চাপ কমে। চর্মরোগ, ক্যানসার প্রতিরোধে, হজম, রক্তে সুগারের মাত্রা বজায় রাখতে, শরীরে শক্তির জোগান দেওয়া,শরীরের আর্দ্রতা ঠিক রাখতে এই ফল অত্যন্ত উপকারী। এই ফলে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম দেহ গঠন ও কোষের সুস্থতায় সহায়তা করে। এছাড়া ও এই ফলের ছাল দিয়ে রঙ তৈরি করা হয় যা রেশম সুতো রাঙাতে সাহায্য করে। লটকা থেকে জ্যাম ও তৈরি হয়।
গোপাল দেবনাথ