এবার নিজের গ্রামে ১৭০পরিবারের পাশে নিপুণ

দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতি জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি’তে অনেকেই নিজ থেকে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে দর্শকপ্রিয় চিত্রনায়িকা নিপুণ অন্যতম।করোনাভাইরাসের শুরু থেকে চিত্রনায়িকা নিপুণকে দেখা গেছে যথেষ্ঠ মানবিকতার পরিচয় দিতে। দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন নিম্ন আয়ের কলাকুশলী ও শিল্পী এবং সাধারণ মানুষের জন্য তিনি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকাই সিনেমার বাজার মন্দা।তারপর আবার চলমান সংকটের কারণে চলচ্চিত্রের সবধরনের শুটিং বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের কলাকুশলী ও শিল্পীরা।এইসব নিম্ন আয়ের কলাকুশলী ও শিল্পীদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন শুধু থেকে ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত চিত্রনায়িকা নিপুণ।ব্র্যাক ব্যাংক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা নিয়ে চলচ্চিত্রের ৩ হাজার শিল্পী ও কলাকুশলীকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়েছেন নিপুণ।এবার নিজের গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন নিপুণ। গত বুধবার লাইলাতুলকদরের দিনে কুমিল্লায় নিজের গ্রামের ১৭০ জন পরিবারের কাছে খাবার তুলে দিয়েছেন এই নায়িকা। করোনাভাইরাসের প্রকপের এই দিনগুলোতে এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। আর নিপুণের এমন কর্মযজ্ঞ দেখে তার প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা।
নিপুণ বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন আমি কুমিল্লার মেয়ে। এসেছিলাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে। আসলে শুধু এই করোনাভাইরাস এর জন্য যে মানুষের পাশে দাঁড়াই তা না, মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে গ্রামের এবং গ্রামের আশে-পাশের মানুষদের সাহায্য করি, পাশে দাঁড়াই ।এখানে অলমোস্ট ১৭০ ফ্যামিলিকে যতটুক আমার সামর্থ্য ছিল আমি দিয়েছি।
নিপুণ আরও বলেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের দিনে আমার জন্মস্থান কুমিল্লায়,আমার গ্রামে ১৭০ জন্য পরিবারের খাবার ব্যবস্থা করেছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। সবধরনের সর্তকতা অবলম্বন করে বাড়ি বাড়ি খাবার দিয়ে আসা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।আমার দাদা হজ্ব করেছেন যখন বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটের ব্যবস্থা ছিল না,জাহাজে করে হজ্বের জন্য যেতে হতো।
আমার দাদা মক্কাতেই মারা গেছেন,ওখানেই উনাকে কবর দেওয়া হয়েছে।দাদা ছিলেন দানশীল মানুষ,সব সময় মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করতেন।আমার বাবা সচিব ছিলেন। তিনিও অত্যন্ত সৎ ও দানশীল ছিলেন।গ্রামের মানুষরা এখনো আমার বাবার কথা ভুলেননি।বাবার কবর টি আমাদের বাড়ির পাশে।পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কবর,পারিবারিক কবরস্থানে।
ফ্যামিলি থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষাটি আমি পেয়েছি।সতের বছর ধরে আমি আমার নিজের গ্রামের সব মানুষের জন্য চ্যারিটি করে আসছি। প্রতিবছরই আমরা কেউ না কেউ গ্রামের বাড়িতে যাই।নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হয় গ্রামের মানুষের।বিগত ২৩ বছর গ্রামে আমারা একটি মসজিদ,একটি মাদ্রাসা ও একটি এতিমখানা পরিচালনা করে আসছি।আমার বাবা এগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাবার অবর্তমানে এখন আমি এগুলোর দায়িত্ব নিয়েছি। মাদ্রাসার ছোট ছোট হাফেজ গুলোর কথা শুনলে আনন্দে আমার চোখে পানি চলে আসে।
রোমান রায়