অভিনয়শিল্পী বন্যা ও তার পুত্রের দ্বায়িত্ব নিলেন জায়েদ খান

আমার এই ছেলেটা আর বৃদ্ধ মা ছাড়া দুনিয়াতে কেউ নেই। সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তিন বছর ধরে অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বড় করছি। তার জন্মদাতা বাবা খবর রাখে না। অনেক কষ্টে আমাদের দিন কাটে। এখন একমাত্র লক্ষ্য ছেলেকে মানুষ করা। তবে সেই সামর্থ্য আমার নেই।’—এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলেন সহশিল্পী রিজিয়া আখতার বন্যা।
‘আশা ভালোবাসা’, ‘কাজের মেয়ে’, ‘মৃত্যু যন্ত্রণা’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন বন্যার মা রাখি আখতার। মায়ের পথ ধরেই চলচ্চিত্র যাত্রা করেন বন্যা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে বন্যা চলচ্চিত্রে আসেন। ‘ধূমকেতু’, ‘ইঞ্চি ইঞ্চি প্রেম’, ‘পাংকু জামাই’সহ ২০টির মতো চলচ্চিত্রে সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া ৩০টি নাটক ও কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন বন্যা।
সহশিল্পীরা দিনমজুরিতে এক-দু’হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। সামান্য এই আয়ে কোনোমতে চলতো তার সংসার। করোনার কারণে চলচ্চিত্রের কোনো কাজ নেই। যে কারণে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। রিজিয়া আখতার বন্যার এমন করুণ পরিণতিতে তার একমাত্র সন্তান তানভীর হোসেন আয়ানের সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান।
শনিবার সন্ধ্যায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে আয়ানকে নিয়ে তার মা সহশিল্পী বন্যা এসে সমস্যার কথা তুলে ধরলে জায়েদ খান আয়ানকে ঈদ উপহার হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা দেন, বন্যাকে দেন এক মাসের বাজার খরচ। এখন থেকে আয়ানের পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বহন করবেন জায়েদ। সমিতি নয়, আয়ানের দায়িত্ব তিনি নিজে পালন করবেন বলে জানান শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।
এ প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন—‘বন্যার কী সুন্দর ফুটফুটে ছেলে। তাদের সমস্যা শুনে মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। তারপর আমি আয়ানের সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ওর মাকে সাহায্য করি। ছেলেটার হাতে পাঁচ হাজার টাকা গুঁজে দিই। এটা ঈদ সেলামি। এখন থেকে আয়ানের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়ার সমস্ত খরচ আমি বহন করব, সে বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই সহযোগিতা করব। এর সঙ্গে সমিতির কোনো যোগসূত্র নেই।’
বন্যা বলেন, ‘জায়েদ খান আমার ছেলের দায়িত্ব নিয়েছেন। আয়ানের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া সবকিছু এখন থেকে তিনি দেখবেন। আমার ছেলে বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। সবাই জায়েদ খানের জন্য দোয়া করবেন।’
উল্লেখ্য,গোটা বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক।বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশে চলমান করোনা পরিস্থিতি জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি’তে অনেকেই নিজ থেকে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও চিত্রনায়ক জায়েদ খান।করোনাভাইরাসের শুরু থেকে জায়েদ খানকে দেখা গেছে যথেষ্ঠ মানবিকতার পরিচয় দিতে। দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন নিম্ন আয়ের কলাকুশলী ও শিল্প।
রোমান রায়