ঈদে নেই সিনেমার প্রতিযোগিতা

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদ। আর এই ঈদের আনন্দের মাত্রা যোগ করতে বিনোদন জগতের কোনো কমতি থাকে না। বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো সিনেমা। তাই ঈদকে উপলক্ষ্য করে চলচ্চিত্র মানুষদের ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। সিনেমা মুক্তির লক্ষ্যে এই সময়ে কাকরাইলে প্রেক্ষাগৃহে ঈদের সিনেমা নিয়ে হল মালিকদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলে।এবং ঈদের সিনেমা নিয়ে প্রযোজক পরিচালকরা দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করেন। ঈদে মুক্তি প্রাপ্ত সিনেমাগুলো নিয়ে তারকাদের মাঝেও চলে অঘোষিত লড়াই। ব্যবসায় দিক দিয়ে কে কাকে কতোটা ছাড়িয়ে গেলেন,আর সিনেমায় দর্শক বেশি।এবং তাদের ভক্তরাও মুখিয়ে থাকেন ঈদে প্রিয় তারকার সিনেমা দেখার জন্য।বরাবরই ঈদের সিনেমা নিয়ে হল মালিক,প্রযোজক,পরিচালক,তারকা এবং দর্শকরা অতিউৎসাহী থাকেন। কিন্তু বিধিবাম,এবার করোনা ভাইরাস সবকিছু থমকে দিলো। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের জন্য সবকিছু লকডাউনে আছে। বাংলাদেশে এখন লকডাউন চলছে। এই করোনা ভাইরাসের কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। মানুষ এখন বিনোদন নিয়ে,তারা দু’বেলা দু মুঠো খাবার নিয়ে চিন্তায় আছে।এই করোনা আতংকের কারণে এবারের ঈদে আলোর মুখ দেখছে না কোন সিনেমা। সিনেমা সংশ্লিষ্টরা সারা বছর ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমার ব্যবসা করা নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও এবারের দৃশ্যপট বদলে গেলো।এতো বছরে এবারই এমনটা ঘটলো সিনেমাবিহীন ঈদ! প্রযোজনা সংস্থার মতে এবারের ঈদে ৩৫০ কোটি টাকার লোকশানের শঙ্কা। এবারের ঈদে মুক্তির তালিকায় থাকা শাকিব খান-বুবলীর ‘বিদ্রোহী’, অপু বিশ্বাস-বাপ্পি চৌধুরীর ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২’, সিয়াম-পূজার ‘শান’, আরিফিন শুভর ‘মিশন এক্সট্রিম’, সজল-পূজার ‘জ্বীন’, অনন্ত জলিল-বর্ষার ‘দিন দ্য ডে’, পরীমনির ‘বিশ্বসুন্দরী’, শার্লিন ফারজানার ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’, মীমের ‘পরাণ’, মাহির ‘মন দেব মন নেব’ কোনোটাই মুক্তি পাচ্ছে না। তিন কোটি টাকার বাজেটের ‘বিদ্রোহী’ ছবিটি ঈদের জন্য নির্মাণ করেন জনপ্রিয় চিত্রপরিচালক শাহীন সুমন। কিন্তু করোনার প্রকোপে সব সিনেমা হল বন্ধ। করোনার কারনে এবারের ঈদে কোন ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। এ যেন ঢাকাই চলচ্চিত্রে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। করোনার সংক্রমণ কেটে গেলেও বন্ধ হওয়া অনেক হলই নতুন করে খোলার সম্ভাবনা নেই। যার কারনে ছবিটি নিয়ে চিন্তিত শাহীন সুমন। তিনি বলেন, ঈদ মৌসুমে সিনেমার জন্য ভালো একটা সময়। সারা বছরের চেয়ে ঈদের সিনেমা বেশ ব্যবসা করে। ঈদ উপলক্ষে অনেক বন্ধ হলও খোলা হয়। যার কারনে প্রযোজকরা কোটি টাকা লগ্নি করে ঈদকে টার্গেট করে সিনেমা নির্মাণ করেন। বড় বাজেটের এ ছবিটি ঈদ ছাড়া মুক্তি দিলে লাভ তো দূরের কথা লগ্নিকৃত অর্থই উঠে আসবে না। এছাড়া চলচ্চিত্রর অবস্থা সেভাবে ভালো নেই। আগের মতো চলচ্চিত্রও নির্মিত হয় না। চলচ্চিত্রর সোনালী দিন এখন শুধুই অতীত। এমন অবস্থায় চলচ্চিত্রর হারানো গৌরব ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা দরকার। সরকার যদি চলচ্চিত্রর দিকে সুদৃষ্টি রাখেন তাহলেই চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন এ নির্মাতা।
করোনার কারনে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ হওয়া দেশের সব সিনেমা হল গুলো আবার কবে খুলবে তারও নেই ঠিক। ঈদ দরজায় কড়া নাড়লেও সিনেমায় মুক্তি লগ্নিকৃত অর্থ নিয়ে চিন্তায় আছেন প্রযোজকরাও। তারা মনে করছেন ঈদে চলচ্চিত্র মুক্তি না পেলে সিনেমা ইন্ড্রাস্টির জন্য প্রায় ৩০০-৩৫০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হবে। নতুন ছবি যেমন আসছে না ঠিক তেমনি টানা তিন মাস সিনেমা হলের তালা বন্ধ থাকায় একেবারে বন্ধের পথে অনেক সিনেমা হল। করোনার সংক্রমণ দূর হলেও বেশ কয়েকটি হল ফের খোলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমন অবস্থায় কপালে চিন্তার ভাঁজ সিনেমা সংশ্লিষ্টদের। হল মালিক সমিতি ও প্রযোজক নেতারা মনে করছেন ঈদকে কেন্দ্র করে সিনেমার বাম্পার ব্যবসা হয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একেবারে ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে হল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, সিনেমা হল বন্ধ হতে হতে ৭০ এর ঘরে এসে ঠেকেছে। এভাবে যদি আরো বেশ কয়েক দিন সিনেমা হল বন্ধ থাকে তাহলে আরো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাবে। এমন বাস্তবতায় সরকারি সহযোগিতা চাইলেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু, ডিপজল, মিশা সওগার, জায়েদ খান, এফ আই মানিক, মালেক আফসারী, দেবাশীষ বিশ্বাস, অপু বিশ্বাস তারা মনে করছেন একমাত্র সরকারি সহযোগিতাই পারে হারিয়ে যাওয়া চলচ্চিত্রর সেই সোনালী অতীত ফিরিয়ে দিতে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দর্শকরা আবারও সেই আনন্দ চিত্তে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখবে এটাও ভাববার বিষয়! তবুও সিনেমা প্রেমীরা আশায় বুক বেঁধে আছেন তাদের প্রিয় তারকার সিনেমা উপভোগ করার জন্য। হল মালিকরা আশায় আছেন কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আবারও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল হবে। তবুও বলতে হয় সিনেমার জন্য এবারের ঈদ ফিকে হয়ে গেলো।
রোমান রায়