মা দিবসে বৃদ্ধাশ্রমে কাটালেন নিপুণ

গতকাল রবিবার ছিল আন্তর্জাতিক মা দিবস। বিশেষ দিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া চিত্রতারকা নিপুণ কাটিয়েছেন উত্তরা সংলগ্ন মৈনারটেক এলাকায় অবস্থিত “আপন নিবাস” নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমের পঁচাত্তর জন অসহায় মানুষের সঙ্গে। এখানে আছেন বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও বিকলাঙ্গ শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা কিছু নারী।
নিজের ফেসবুক পেজে কিছু পোষাক আর খাদ্য সামগ্রীর ছবি দিয়ে নিপুণ লিখেছেন, এই ঈদে শপিং করার কি কোনো দরকার আছে ? আমি মনে করি তার দরকার নেই। আমাদের সকলেরই কিছু আত্মীয় রয়েছেন যারা কিছুটা আর্থিক সহায়তা পেলে খুশি হবেন। আমাদের পরিবার থেকে আমরা তাই করব। এবারের ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা এটাই। আমাদের অনেকেরই বাসায় নতুন পোষাক আছে , যা এখনও পরা হয়নি – এই রকম পোশাকগুলো যদি আমরা অন্যদের সাথে শেয়ার করি। আমি অলরেডি দিয়ে দিয়েছি, বিশ্বাস করুন মনে প্রশান্তি পাবেন। ঈদ আনন্দ নিয়ে আসে ঠিকই। তবে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এবার আনন্দের কোনো অনুভূতি থাকার কথা না।
জানা গেছে রাজধানীর এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরমান সাহেবের মাধ্যমে “আপন নিবাস” বৃদ্ধাশ্রম থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এই করোনায় ওখানকার অসহায় মানুষদের কিছু খাবার সহায়তা প্রদান করার জন্যে। নিপুণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাই বিশ্ব মা দিবসে তিনি তাদের জন্যে খাবার সামগ্রী নিয়ে সেখানে জান। অনেক রকমের খাবার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য তাদের প্রদান করা হয় বলে নিপুণ জানান। ৩০ টি দেশী মুরগি, ৫০ কেজি মিনিকেট চাল, ১৩ কেজি পোলাওয়ের চাল, ২৫ কেজি মসুর ডাল, আলু ৫০ কেজি, ৮০ কেজি পেঁয়াজ, ৩০ কেজি আটা, ৫০ কেজি চিনি, সুজি ২৫ কেজি, সেমাই ১৬ কেজি, সয়াবিন তেল ১৫ লিটার, মিল্ক পাউডার ৬ কেজি, কনডেন্সড মিল্ক ৫ কৌটা, লেক্সাস বিস্কুট ১০ বক্স, কয়েল ১০ বক্স, হুইল পাউডার ৫ কেজি, ট্যাং ২ কেজি, রুহ আফজা ১ লিটার, সাবান ১০ পিস, শ্যাম্পু ৮ বোতল, হরলিক্স ১ বোতল ( গর্ভবতী মহিলাদের জন্যে ), কফি ২ প্যাকেট, পাউরুটি ৫ প্যাকেট, গরম মশলা ( বাদাম, কিসমিস, দারুচিনি, এলাচ, জিরা, ধনিয়া, হলুদ, মরিচ গুঁড়া ), কলা, খেঁজুর, কমলা, লাউ, কাঁচ কলা, নুডুলস, পেট্রোলিয়াম জেল, আঁচার ( নিপুণের মায়ের বানানো ) সহ আরও অনেক সামগ্রী নিজের হাতে গিয়ে ওই বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে এসেছেন নিপুণ।
এই প্রসঙ্গে নিপুণ গণমাধ্যমকে বলেন, আজ মা দিবসে আমি এইসব অসহায় মা, বিকলাঙ্গ ও প্রতিবন্ধী শিশু এবং বিভিন্ন ভাবে ধর্ষিতা গর্ভবতী নারীর পাশে দাঁড়িয়ে মানসিক তৃপ্তি পেয়েছি। এরা বাস্তবিক অর্থেই অসহায়। এসব এদের খুবই দরকারি ছিল। উনারা আজ হেসেছেন। জীবনে এরা একবেলা একটু খাবার চান। ছয় মাস এ একবার গরুর মাংস পেলেই এরা খুশি। আমি ধন্যবাদ জানাই এয়ারপোর্ট থানা এবং উত্তর খান থানাকে, আমাকে এই করোনাকালে ওখানে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করার জন্য। আমার অনুরোধ – আপন নিবাস, সহ অন্যকোন বৃদ্ধাশ্রমে যেনো আর কোন মা না আসেন। এরা যেনো সন্তানদের ভালোবাসায় সন্তানদের কাছেই থাকতে পারেন – মা দিবসে এটাই হোক অঙ্গীকার। আর সন্তানদের কাছে আমার অনুরোধ।
প্রসঙ্গত, চলমান করোনা মহামারীতে নিপুণ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাদের অর্থ ও খাবার সামগ্রী সহায়তা দিচ্ছেন তিনি। এছাড়াও চলমান রমজানে নিপুণ বাসায় ইফতার বানিয়ে সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষের মাঝে প্রতিদিন বিতরণ করছেন।
রোমান রায়